স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২১ আগস্ট: শুক্রবার পিএমশ্রী
এ.ডি নগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষা পরিকাঠামোকে আরো
একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে একাধিক সরকারি পরিকাঠামোর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ
মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বক্তব্য রেখে বলেন, বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব
দিয়ে চলেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উপর। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে বিদ্যালয় শিক্ষা
ব্যবস্থার সর্বাঙ্গীন বিকাশে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিশেষ
গুরুত্ব দিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্য নিয়ে শুক্রবার
পিএমশ্রী এডি নগর উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়, বড়দোয়ালী দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়,
নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন, চারিপাড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় এবং হাঁপানীয়া দ্বাদশ
শ্রেণী বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়।
এই পাঁচটি বিদ্যালয়
নতুন ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২৯ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও, ভার্চুয়াল মাধ্যমে
পুর নিগম এলাকায় নকশা পাইলট প্রজেক্টের সূচনা করা হয় এবং ২৪০টি বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম
সুবিধার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তাকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে তিনি যেন খবর নেন, রাজ্যের বালিকা বিদ্যালয়ে গুলির চারপাশে দেওয়াল
আছে কিনা, পানীয় জলের বন্দোবস্ত আছে কিনা সেগুলি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি
ছাত্রছাত্রীরা যাতে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে
গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ছাত্রছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর
শিক্ষক শিক্ষিকারা। শিক্ষক শিক্ষিকারা যাতে সঠিকভাবে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং সঠিক
সময়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তার জন্য দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট দেওয়ার
জন্য। পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন আগে শিক্ষিত শিক্ষিকা
দের জানতে হবে।
তাহলেই তারা
ক্লাসে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ডেলিভারি করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষক
সংকট নিয়ে যে অভিযোগ রাজ্যজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রচার করে চলছে তার মুখ্য
জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজ্যে বিদ্যালয়ের সংখ্যা আগামী দিন কমতে পারে তারও
ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রী
সংখ্যা কম, কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা বেশি। আবার কিছু স্কুল রয়েছে যেখানে শিক্ষক
শিক্ষিকার কম কিন্তু ছাত্রছাত্রী সংখ্যা বেশি। এই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একলব্য
মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল একুশটির অনুমোদন পেয়েছে সরকার। এরমধ্যে বারোটি শুরু হয়ে
গেছে। আরো ছয়টি শুরু হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে। একলব্য স্কুল গুলির মধ্যে যেহেতু
অত্যন্ত ভালো পড়াশোনা হচ্ছে, তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক কিলোমিটারের মধ্যে যতগুলো
সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলিকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা হবে। তাহলে ছাত্র-ছাত্রীর
সঙ্গে শিক্ষক শিক্ষিকার অনুপাত সঠিক থাকবে। পঠন-পাঠনে অগ্রগতি আসবে। প্রয়োজনের ছাত্রছাত্রীদের
জন্য হোস্টেল তৈরি করে দেওয়া হবে। তাহলে বেসরকারি স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। এরকম
একটা চিন্তাভাবনা রাজ্য সরকার গ্রহণ করেছে। এমনটাই জানেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়োজিত অনুষ্ঠানে
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়িকা মিনা রানী
সরকার সহ স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান