স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ সেপ্টেম্বর : গোটা দেশের সঙ্গে এই
রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস। দাবি অবিলম্বে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ
কুমারকে অপসারণ করা এবং গ্রেপ্তার করার। মঙ্গলবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ
কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্মনগরে কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল। এদিন ধর্মনগর জেলা কংগ্রেসের
উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধর্মনগর শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। কংগ্রেসের
জেলা অফিস থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ধর্মনগর শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে ধর্মনগর
জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখে।
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে জেলাশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের দিকে এগিয়ে
যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। যদিও পরবর্তীতে
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এইদিনের বিক্ষোভ
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, উত্তর জেলা কংগ্রেস
সভাপতি নিরুপম দে, কংগ্রেস নেতা চয়ন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। আশিস কুমার সাহা জানান
জ্ঞানেশ কুমার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর থেকে নির্বাচন কমিশনে একনায়ক
তন্ত্র কায়েম করেছেন। জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা তথ্য সহকারে প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী।
নির্বাচন কমিশনের এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি। অপরদিকে
জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে খোয়াইতে
বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল কংগ্রেস দল। এই দিন খোয়াই কংগ্রেস ভবন থেকে কংগ্রেস দলের
কর্মী-সমর্থকরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে শেষে খোয়াই
জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে
কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং জ্ঞনেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। এই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে
উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি প্রদ্যুত ভট্টাচার্য, খোয়াই
ব্লক কংগ্রেস সভাপতি প্রদ্যুৎ বিশ্বাস, পিসিসি সদস্য পরিতোষ দাস, মহিলা কংগ্রেস সভাপতি
অঞ্জনা নন্দী-সহ কংগ্রেস দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা। প্রধান নির্বাচন
কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার এবং পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সোনামুড়া জেলা কংগ্রেসের
উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করা হয়। এদিন জেলা কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস
কর্মী সমর্থকরা "ভোট চোর গদি ছোড়" এই শ্লোগানে তুলে মিছিল করে প্রধান নির্বাচন
কমিশনার জেনেশ কুমারের গ্রেপ্তার এবং পদত্যাগের দাবি করেন।
পরে সোনামুড়া
এসডিএম অফিসের চত্বরে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের আটকে দেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ
থেকে। এদিন কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা পুলিশের তিনটি বেরিগেট ভেঙ্গে সোনামুড়া মহকুমা
শাসক অফিসে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। তারপর দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত সাহা, মুখ্য নির্বাচনে আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের কোশপত্তিলিকা দাহ করেন সোনামুড়া
নেতাজি চৌমুহনীতে। এরপর পুলিশ কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের আটক করে নিয়ে যায়। সোনামুড়া
টাউন হলের অস্থায়ী জেলে আটক করা হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উপস্থিত এন.এস.ইউ.আই
-র সভাপতি আমির হোসেন বলেন, গোটা দেশ এখন সংকটের মধ্যে আছে। দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছুই
নেই। এই বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এক হয়ে মানুষের ভোট অধিকার হরণ করছে। যা
দেশের জন্য এবং সংবিধানের জন্য খুবই বিপদজনক, তাই যতদিন না নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ
করবেন এবং গ্রেপ্তার না হবেন ততদিন কংগ্রেস আন্দোলন চলবে। অপরদিকে দেশের মুখ্য নির্বাচন
কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে উদয়পুর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে
আয়োজিত হয় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। সম্প্রতি ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসও
একই দাবিতে আগরতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এবং জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করে।
উদয়পুরে কংগ্রেস ভবন থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা
করে জামতলা এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল
দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন
প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এই পরিস্থিতিতে
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য তাদের কার্যক্রম আইনসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
উদয়পুরের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উদয়পুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি টিটন পাল,
বিভিন্ন ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি, জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি সহ অন্যান্যরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান