Wednesday, September 30, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ বিএনপি সরকার উৎখাতে জামাত-নেতৃত্বাধীন জোটের ষড়যন্ত্রের দাবি, রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

বিএনপি সরকার উৎখাতে জামাত-নেতৃত্বাধীন জোটের ষড়যন্ত্রের দাবি, রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

বিএনপি সরকার উৎখাতে জামাত-নেতৃত্বাধীন জোটের ষড়যন্ত্রের দাবি, রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ সেপ্টেম্বর :বাংলাদেশে বিএনপি সরকারকে হিংসাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাতের জন্য জামাত-ই-ইসলামি নেতৃত্বাধীন একটি জোট আগামী নভেম্বর মাসে পরিকল্পিত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই ‘ষড়যন্ত্রের’ বিষয়ে তথ্য পেয়েছে বলে ‘দ্য ফেডারেল’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটির লক্ষ্য জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে একটি ‘বিপ্লবী সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিবেদনে জুলাই চার্টারকে বাংলাদেশে শরিয়াভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (NCP), যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রাক্তন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত কয়েকজন যুব নেতা, এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে। আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরিয়ে ইউনূসকে ওই পদে বসানোর পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘দ্য ফেডারেল’-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিএনপি সরকার জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন করে নতুন ইসলামপন্থী সংবিধানের পথ প্রশস্ত করতে অস্বীকার করায় জোটের নেতারা এবং কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আজমির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের কথিত সমর্থনেরও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার আজমি ও তাঁর সহযোগীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য দুই ধাপের একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। প্রথম ধাপের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন দমন’। এর লক্ষ্য হিসেবে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (DGFI) প্রাক্তন প্রধান রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী তুরস্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে একটি কথিত ইসলামপন্থী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৮,৮০০ যুবককে বাছাই করে এক মাসব্যাপী যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন দমন’-এর কৌশলগত পরিকল্পনা জুলাই মাসে শুরু হয় এবং ঢাকার বনানীর একটি ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির কার্যালয় থেকে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্কের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কূটনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আজমির কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইসলামি অনাথ আশ্রম পরিদর্শন করেছেন এবং সেখান থেকে ‘মেধাবী শিক্ষার্থী’ চিহ্নিত করে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (NSI) এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে এই কার্যক্রমকে বাংলাদেশ ও ভারতের সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে ব্যবহারের জন্য আত্মঘাতী হামলাকারীদের দল তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা সফল হলে পূর্ব সীমান্তে ভারতের জন্য একটি ‘বেঙ্গলি পাকিস্তান’ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও গোয়েন্দা-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা বক্তব্য বা নিশ্চিত প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha