Wednesday, October 14, 2026
বাড়ি রাজ্য ফায়ারম্যান এবং শিক্ষক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য রাস্তায় নামলেন শত শত বেকার

ফায়ারম্যান এবং শিক্ষক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য রাস্তায় নামলেন শত শত বেকার

ফায়ারম্যান এবং শিক্ষক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য রাস্তায় নামলেন শত শত বেকার

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।  ১৪ অক্টোবর : রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদ পূরণ করতে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। আর এই বেকার যন্ত্রনার আগুন লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজপথে। কেউ চোখের জল ফেলছেন, আবার কেউ মুখ খুলছেন। বুধবার ফায়ারম্যান এবং শিক্ষক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য রাস্তায় নামলেন শত শত বেকার। কারণ, সুশাসন জামানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগছে চার থেকে পাঁচ বছর। ভূ- ভারতের নজিরবিহীন ঘটনা এই রাজ্যে। কারণে অকারণে এভাবে বেকার ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রাখার কারণে প্রতিদিন রাস্তায় নামছেন বেকাররা। ফায়ারম্যান নিয়োগের ত্রিপুরা ফায়ার সার্ভিসের চরম গাফিলতি সামনে এসেছে। এক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চার থেকে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ, দপ্তরের অপদার্থতা রাজ্যের বেকারদের চরম হতাশ করে ফেলছে।

 বেকারদের অভিযোগ, বুধবার তারা ডেপুটেশন দিতে এসেছেন। ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত একাধিকবার তারা দপ্তরে এসে আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং ডেপুটেশন প্রদান করেন। কিন্তু যতবারই এসেছেন ততবারই তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। কিন্তু এভাবে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে, আর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থতা প্রকট হচ্ছে দপ্তরের। বেকারদের বক্তব্য তারা প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা দিয়ে ১ হাজার ৮০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার তাদের পুনরায় পরীক্ষা গ্রহন করেন। তখন উত্তীর্ণ হয় ১ হাজার ৭০০ জন। তারপর লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ১৪০০ জন এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করেন ১ হাজার ২০০ জন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেনি দপ্তর। ফলে অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেকাররা। তাদের বক্তব্য যতবার দপ্তরে এসে ডেপুটেশন প্রদান করেছেন এতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তারা।

এদিকে এস.টি.জি.টি-র পরিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের বক্তব্য ২০২২ সালে তারা পরীক্ষায় বসে। এখন পর্যন্ত তাদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত করা হয়নি। অথচ, ২০২৫ সালে এসটিজিটির নতুন পদ তৈরি করে আজকে অফার তুলে দিচ্ছে। তাদের পরে বসে অফার পেয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বলে মনে করছেন তারা। দপ্তর বলছে আইনি জটিলতার কারণে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত করা যাচ্ছে না। তারা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে সরকারে এসএলপি করতেই পারে। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়নি যে তাদের নিয়োগ করা যাবে না। আদালত থেকে নয় সেপ্টেম্বর জানিয়ে দেওয়া হয় ২৩০ টি শূন্যপদের জন্য ফলাফল প্রকাশ করার জন্য। তাদের আরো বক্তব্য সরকারের যদি সহানুভূতি থাকে তাহলে এটা কোনোভাবেই আইনি দপ্তরে এতদিন ধরে থাকতে পারে না। এদিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পরীক্ষার্থীরা হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।তবে দিকে দিকে বেকার আন্দোলন ক্রমশ তেজী হচ্ছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে ঘোষণা হতে পারে পুর নিগম এবং নগর নির্বাচন। তখন আবারো আটকে পড়বে নিয়োগের জন্য জুড়ে থাকা হাজার হাজার বেকারের ভবিষ্যৎ।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha