স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২৪ আগস্ট :গোড়ায় গলদ।
এই প্রবাদটি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল রাজ্য সরকারের সঙ্গে। ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোসাই হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সরকার। নামি
বেনামি কোম্পানিকে রাজ্যে জায়গা দিয়ে গাড়ি বিক্রি করার সুযোগ করে দিয়েছে গত কয়েক
বছরে। এখন শহরে যখন ট্রাফিক জ্যাম চরম আকার ধারণ করছে তখন চালকদের কাছ থেকে গাড়ি আটক
করে নিয়ে কর্মযজ্ঞ তোলে ধরছে ডবল ইঞ্জিন সরকারের ট্রাফিক কর্মীরা।
এরই প্রতিবাদে
সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ময়দানে নেমে পরিবহন দপ্তর সহ রাজ্য
সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে। এদিন ১১ দফা দাবিতে রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে মিছিল বের
করে ই-রিকশা শ্রমিক সংঘ ত্রিপুরা প্রদেশের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সংগঠনের
নেতা অসীম দত্ত অভিযোগ করেন, ট্রাফিক পুলিশ ই-রিকশা চালকদের আটক করে জরিমানা করছে।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে নিয়ম অনুযায়ী পঞ্চায়েত এলাকার গাড়ি আগরতলা পৌর নিগম এলাকায়
চলাচল করতে পারবে না।
কিন্তু প্রশ্ন
হল যে কোম্পানিগুলি গাড়ি বিক্রি করছে তারা গাড়ির মালিকের আধার কার্ডের ফটোকপি সংগ্রহ
করে ঠিকানা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে ঠিকানা দেওয়া হচ্ছে পঞ্চায়েত
এলাকার। এ ধরনের কার্যকলাপে সরাসরি যুক্ত কোম্পানি। পরিবহন দপ্তর কোম্পানির বিরুদ্ধে
কোনরকম ব্যবস্থা না নিয়ে গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ পেট্রোল
এবং সিএনজি গাড়ির জন্য পারমিট লাঘু রয়েছে। কিন্তু ইলেকট্রিক অটোর জন্য পারমিট নেই।
এ বিষয়ে পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেছিলেন ইলেকট্রিক
অটোগুলি যেহেতু সেন্ট্রাল পারমিট তাই তাদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোন পারমিটের প্রয়োজন
নেই।
কিন্তু সংগঠনের
পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে প্রত্যেক গাড়ির সেন্টাল এবং রাজ্যের পারমিট থাকে। তাই
ইলেকট্রিক অটো গুলির যেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পারমিট এর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি
অযথা ই-রিকশা আটক ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান অসীম দত্ত। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থে
আরও বিভিন্ন দাবি জেলা শাসকের কাছে তুলে ধরা হয়। এদিকে সি আই টি ইউ অনুমোদিত অল ইন্ডিয়া
রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে সোমবার পরিবহন
দপ্তরে যুগ্ম কমিশনারের নিকট ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অল
ইন্ডিয়া রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক অমল চক্রবর্তী জানান,
সম্প্রতি আগরতলা শহরে অটো, ই-অটো এবং ই-রিক্সা চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও
ধরপাকরের কারনে গরীব পরিবহন শ্রমিকদের ত্রুটি-রুজির সংকট দেখা দিয়েছে, তৈরী হয়েছে যাত্রী
সাধারনের চলাচলের ক্ষেত্রে সংকট। তিনি বলেন, সরকার বলেছে ইলেকট্রিক অটো শহরের মধ্যে
চালাতে গেলে কোন পারমিট লাগবে না। এখন গত কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে শহরের ইলেকট্রিক
অটোগুলিকে আটক করছে। এর তীব্র বিরোধিতা করে সংগঠন। অবিলম্বে সরকারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত
প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রাস্তায় নেমে অটো চালিয়ে সংসার পরিচালনা
করছে হাজার হাজার শ্রমিক। এখন তাদের পেটে লাথি মারছে সরকার। তিনি আরো বলেন, গত ৮ বছরে
আগরতলা শহরের টাউন বাস চালু করতে পারে নি সরকার। ছাত্র-ছাত্রী এবং মুমূর্ষ রোগীদের
বড় ভরসা হল ই রিক্সা এবং অটোরিকশা। সুতরাং এই সরকারটা হল গরিব বিরোধী সরকার। এমনটাই
জানান তিনি। এদিক মজদুর মনিটরিং সেলের পক্ষ থেকে রাজধানীর প্যারাডাইস চৌমুহনি এলাকায়
গণঅবস্থান করা হয়। গণ অবস্থান থেকে ইমাম হোসেন প্রশ্ন তোলেন গাড়ি বিক্রির সময় রেজিস্ট্রেশনে
কিভাবে আগরতলার গাড়ির মালিককে পঞ্চায়েত এলাকার ঠিকানা দিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রশ্ন
তুলে তিনি বলেন এর জন্য কে দায়ী? সরকার দায়ী কিনা গণ অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলেন।
পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন আগরতলা শহরের মধ্যে কত সংখ্যক গাড়ি চলাচল করলে যানজট সৃষ্টি
হবে না সেটা জানার পরও কেন কোম্পানির সঙ্গে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এখন যখন গাড়িগুলি
রাস্তায় নামছে তখন তাদের এভাবে আটক করা হচ্ছে। যার ফলে এখন প্রশাসনের যন্ত্রণায় চালকরা
রাস্তায় নামতে পারছে না। তার উপর দিয়ে রয়েছে কিস্তির টাকা। সংসার পরিচালনা করে কিস্তির
টাকা জোটানো মুশকিল হয়ে পড়ছে শ্রমিকদের জন্য। কিন্তু প্রশাসনের যন্ত্রণায় যদি কোন
শ্রমিক আত্মহত্যা করে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এর জন্য দায়ী হবে সরকার। এভাবেই
স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। কিন্তু খবর লেখা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খোলেননি।
এত বড় অনিয়ম চলছে আগরতলা শহরের বুকে, অথচ বিষয়টি ধাপাচাপা পড়ে আছে!
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান