স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
১৫
অক্টোবর :ত্রিপুরার মেধাবী পড়ুয়ারা যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রতিভার
স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম, তা প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই প্রমাণ করেছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট
অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইআইটি) আগরতলা। এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য রাজ্যের প্রযুক্তিগত
শিক্ষার অগ্রগতির পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মোহনপুরে ট্রিপল আইটি আগরতলার স্থায়ী ক্যাম্পাসের
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বললেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন
জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ রাজ্যে প্রযুক্তিগত শিক্ষা,
গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে। ২০১৮ সালের ২৫ জুন যাত্রা শুরু করেছিল
ট্রিপল আইটি আগরতলা। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান, প্রযুক্তিগত
দক্ষতা এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন
করেছে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি ব্যাচের
পড়াশোনা সম্পূর্ণ হয়েছে। এই পাঁচটি ব্যাচে মোট ১১০ জন পড়ুয়া ছিলেন। তাঁদের মধ্যে
গড়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি পড়ুয়া চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম ব্যাচের ক্ষেত্রে চাকরি
পাওয়ার হার ছিল ১০০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ বার্ষিক বেতনের প্যাকেজ দাঁড়িয়েছে
২১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। অ্যামাজন, রেড হ্যাট এবং মিডিয়া ডটনেটের মতো সংস্থার সঙ্গে
পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়াও প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পরিচায়ক বলে উল্লেখ
করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসটি ৫০
একর জমির উপর গড়ে তোলা হবে। এর ফলে আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ এবং গবেষণার
সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, ত্রিপুরার মাটিতে প্রতিভার জন্ম হচ্ছে, কিন্তু
সেই প্রতিভার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে হবে গোটা বিশ্বে। আগরতলার পড়ুয়াদের এমন প্রযুক্তিগত
পণ্য ও সমাধান উদ্ভাবনের স্বপ্ন দেখতে হবে, যা বেঙ্গালুরু, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, সিলিকন
ভ্যালি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের কাজে লাগবে। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা
বজায় রেখে ত্রিপুরার উন্নয়নেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রযুক্তি সংস্থা, তথ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক
সংস্থাগুলির সঙ্গে আইআইআইটি আগরতলার অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
পড়ুয়াদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপ,
সরাসরি প্রকল্পে কাজ, মেন্টরশিপ, উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা এবং উদ্যোগপতি হয়ে ওঠার সুযোগ
বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা এবং বাস্তব অর্থনীতির চাহিদার
মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
নতুন ক্যাম্পাস এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলবে, যেখানে পড়ুয়ারা
প্রশ্ন করতে, প্রচলিত চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজের
সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত হবে এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রিপল আইটি আগরতলার বোর্ড অব
গভর্নরসের চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (ড.) কে. হিমালয় সিং,
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বৃশকেতু দেববর্মা এবং ট্রিপল আইটি আগরতলার অধিকর্তা
অধ্যাপক (ড.) অভয় কুমার।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান