স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
১৫
অক্টোবর : লক্ষ লক্ষ টাকা ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে রাজ্যের দুটি বেসরকারি
মেডিকেল কলেজ। অথচ, সঠিক পরিকাঠামো এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই কলেজ গুলিতে। ইদানিং
ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য প্রায় ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এমন
ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন এসএফআই, ডেপুটেশন দিল দপ্তরের অধিকর্তার কাছে। জানা যায়, রাজ্যের
মেডিকেল কলেজগুলির অবস্থা অত্যন্ত সূচনীয়। শিক্ষার হাল এক প্রকার ভাবে ভেঙে পড়েছে
বলা চলে।
এ বছর রাজ্যের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ দুটির প্রথম বর্ষের
পাশের হার মাত্র ৬৬ শতাংশ।তুলনামূলকভাবে পাশের হার বিগত বছরগুলির তুলনায় এগিয়ে গেছে
আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ। অন্যান্য বছর আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের ফলাফল বেসরকারি
মেডিকেল কলেজ হাপানিয়া থেকে খারাপ হতো। কিন্তু এবছর নিরাশজনক ফলাফল হয়েছে হাঁপানিয়া
মেডিকেল কলেজ এবং শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের। ফলাফল প্রকাশ হতেই বেসরকারি মেডিকেল
কলেজ দুটির শিক্ষক শিক্ষিকাদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু
করেছে। প্রতিবছর পড়ুদের কাছ থেকে মোটা অংক আদায় করে চলছেন সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ
কর্তৃপক্ষ। সে তুলনায় গুণগত শিক্ষা কতটা মিলছে কলেজগুলিতে সেটাই ফলাফলে প্রকাশ্যে
আসতে শুরু করেছে। তাই এবার সরব হয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন।
রাজ্যের মেডিকেল
কলেজ গুলিতে বেহাল পাশের হার সহ তিন দফা দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার নিকট
ডেপুটেশন প্রদান করল এসএফআই। বৃহস্পতিবার এসএফআই-র এক প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য শিক্ষা
অধিকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অধিকর্তার নিকট ডেপুটেশন প্রদান করেন। পরে এসএফআই রাজ্য কমিটির
সম্পাদক সিজন দেব বলেন ৭ অক্টোবর রাজ্যের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ফলাফল
প্রকাশ করা হয়। দেখা যায় মেডিক্যাল কলেজ গুলির ফলাফল বেহাল। তিনটি মেডিক্যাল কলেজের
মধ্যে দুইটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পাশের হার একেবারে খারাপ। প্রায় ৬৬.৫১ শতাংশের
উপর পড়ুয়া ফেল করেছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিয়ে ধ্বংস
করে দিচ্ছে। এমন ফলাফলের পেছনে মূল কারণ হল পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। তিনি আরো বলেন,
রাজ্যের সব জায়গায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। দিন দিন শিক্ষা ব্যবস্থা পেছনের দিকে
যাচ্ছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। আরো অভিযোগ তুলে
বলেন, এই মেডিকেল কলেজ গুলোর মধ্যে ফ্যাকাল্টি নেই। অথচ প্রতিবছর ফি বাড়ছে। এই বর্ধিত
ফি বাতিল করতে হবে। অন্যদিকে যতটা পরিকাঠামো থাকার কথা ততটা নেই। এগুলি আগামী দিন গুরুত্ব
দিয়ে দেখতে হবে দপ্তরকে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান