স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
৩
আগস্ট :ভাত দেওয়ার মরুদ
নেই কিল মারার গোঁসাই। জনগণ যেন হাতের কাঠ পুতুল! মর্জি মাফিক বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি
করা অভ্যেস হয়ে গেছে বিকাশ ত্রিপুরায়। রাজ্যের মানুষের আর্থিক উন্নয়ন কতটা হয়েছে
সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিদ্যুৎ মাশুল বিক্রি করে এক প্রকার ভাবে শোষন তান্ত্রিক দপ্তর
হয়ে উঠছে বিদ্যুৎ নিগম। এর বিরুদ্ধে এবার সড়ক হয়েছে কোন রাজনৈতিক দল নয়, সরব হয়েছে
সাধারণ জনগণ। সোমবার সোনামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল
হন এলাকাবাসী।
অভিযোগ, সাম্প্রতিক
সময়ে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের
সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ডেপুটেশন প্রদান করতে এসেছিলেন সোনামুড়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। কিন্তু
সকাল ১১:২০ মিনিটেও বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ে আসেননি ম্যানেজার। তারপরেই গ্রাহকরা
তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীরা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং
বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল অবিলম্বে প্রত্যাহার করা ও বিলের পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনামুড়া থানার পুলিশ। কিন্তু গ্রাহকদের বক্তব্য তারা
কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থন কিংবা সরকারের বিরোধিতা করতে যায়নি। ডেপুটেশন প্রদান করতে
এসেছে।
সকাল ১১ টা
২০ মিনিটেও অফিসে আসেননি ম্যানেজার। গত দুমাস ধরে অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে
তাদের। তাদের মধ্যে বহু গ্রাহক অত্যন্ত গরিব। মাসে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা তাদের
রোজগার। এই শ্রমিক পরিবারদের আগে বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে
তাদের বিদ্যুৎ বিল এক লাফে আঠারোশো টাকা থেকে ২০০০ টাকা, আড়াই হাজার টাকা হয়ে গেছে।
এত টাকা বিদ্যুৎ বিল দিয়ে তারা সংসার পরিচালনা করতে পারবে কিনা চিন্তায় পড়েছে। বিগত
দিনে প্রতি ইউনিট দুই থেকে তিন টাকা থাকলেও বর্তমানে সেই ইউনিট ৯ থেকে ১০ টাকা করে
নিয়েছে বিদ্যুৎ নিগম। আবার দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ দাবি করছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী
নাকি দপ্তর বাড়ায় না! তাই মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাদের প্রশ্ন তাহলে বিদ্যুৎ বিল কি
সাধারন মানুষ বাড়ায়? সুতরাং মন্ত্রীর কথার যুক্তিকতা নেই সেটা বুঝিয়ে দিলেন গ্রাহকরা।
তার উপর আবার, সোনামুড়া বিদ্যুৎ নিগম সার্ভের দোহাই দিয়ে দু মাসের বিদ্যুৎ বিল একসাথে
চাপিয়ে দিয়েছে গ্রাহকদের উপর। এত টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। অন্যদিকে
তাদের দাবি স্মার্ট মিটার লাগানোর জন্য বিদ্যুৎ নিগমের কর্মীরা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি
করছে। প্রিপেইড মিটার হলে প্রতি মাসে ১৮০০ টাকার অধিক রিচার্জ করতে হয়। এত টাকা বিদ্যুৎ
রিচার্জ করা তাদের পক্ষে সক্ষম হয়ে উঠছে না। পশ্চিমবঙ্গে যদি স্মার্ট মিটার চালু না
হয়ে থাকে তাহলে কেন ত্রিপুরার গ্রাহকদের উপর এভাবে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
অবিলম্বে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করার জন্য দাবি করেন এই গ্রাহকরা। তারা বলেন অতিরিক্ত
চার্জ এবং বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে তারা আগামী দিন গোটা রাজ্যে
আন্দোলন গড়ে তুলবে। এই চরম সতর্কতা জারি করলেন সোনামুড়ার গ্রাহকরা। এদিকে গ্রাহক
মহলে প্রশ্ন উঠছে, গ্রাম পাহাড়ে হুকলাইন বন্ধ করতে পারছে না কেন সরকার। বিভিন্ন সময়
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পর্যন্ত দপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আর
সেই ব্যর্থতা বৈধ গ্রাহকদের উপর কেন এভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? অথচ বিদ্যুৎ মৌলিক
চাহিদা। এই মৌলিক চাহিদা জন্য বৈধ গ্রাহকদের পকেট কাটা ছাড়া আর কিছু নয়। সেই সেই
রাস্তায় অগ্রসর হচ্ছে দপ্তর প্রধান।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান