স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
৫ আগস্ট: উত্তর ত্রিপুরার
কদমতলা থানাধীন ঝেরঝেরী এলাকায় পাথর ভাঙার একটি ক্রাশার থেকে মূল্যবান লোহার যন্ত্রাংশ
চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে
নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ ও স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঝেরঝেরী এলাকার একাধিক পাথর ভাঙার ক্রাশার থেকে
দামী যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠছিল। পরপর এমন ঘটনার জেরে ক্রাশার মালিকরা যৌথভাবে পাহারার
ব্যবস্থা করেন। সেই পাহারার সময় বুধবার দুপুরে ইমদাদুর রহমানের মালিকানাধীন একটি ক্রাশার
থেকে লোহার যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় আব্বাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে
আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি কদমতলা থানার অন্তর্গত বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডের
ঝেরঝেরী এলাকায়।
এরপর অভিযুক্তকে
পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালীন প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে
সঙ্গে নিয়ে কদমতলা বাজারের একটি ভাঙারি দোকানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ক্রাশার
মেশিনে ব্যবহৃত প্রায় একশোটি ‘রুলি’সহ একাধিক লোহার যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা
হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা বলে
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে অভিযোগ, আরও কিছু চুরি যাওয়া যন্ত্রাংশ এখনও উদ্ধার করা
সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে,
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ভাঙারি দোকানের মালিককে দোকানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে
দেখা হচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া যন্ত্রাংশগুলির উৎস ও মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, ক্রাশার
মালিক বিল্লাল আহমেদ দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগেও একই ধরনের চুরির ঘটনায় কয়েকজনকে
আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ও পুলিশের অভিযানে একই ভাঙারি দোকান
থেকে ক্রাশারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর আরও দাবি,
চুরি হওয়া মালামাল কম দামে কেনাবেচার সুযোগ থাকায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর মদতেই
এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রের
দাবি, ধৃত ব্যক্তি সম্প্রতি একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ফিরে এসেছেন। তবে ওই দাবি
স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কদমতলা থানার পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে ক্রাশার মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান