Thursday, November 5, 2026
বাড়ি রাজ্য এন.আই.ও.এস পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন, চিন্তায় ফেলছে পরিস্থিতি

এন.আই.ও.এস পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন, চিন্তায় ফেলছে পরিস্থিতি

এন.আই.ও.এস পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন, চিন্তায় ফেলছে পরিস্থিতি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ নভেম্বর : রাজ্যজুড়ে এন.আই.ও.এস পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এন.আই.ও.এস পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরেও চলে উত্তরপত্র লেখার কাজ। এন.আই.ও.এস পরীক্ষা কাণ্ডে বড়সড় কেলেঙ্কারি সামনে এলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে নন্দননগরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সোমবারের পরীক্ষার উত্তরপত্র সহ তিন জনকে আটক করে এনসিসি থানার পুলিশ। এন.আই.ও.এস পরীক্ষার কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে বিক্রম দেববর্মার নাম।

পুলিশি অভিযানে আটক তিন জনের মধ্যে রয়েছে বিক্রম দেববর্মার নিকট আত্মীয় এবং এন.আই.ও.এস-এর সহকারী এজেন্ট প্রসনজিৎ দেববর্মা। পুলিশের অভিযানের আগেই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত বিক্রম দেববর্মা। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে জানা গেছে। পলাতক বিক্রম দেববর্মা সরকারি লাইব্রেরিতে কর্মরত বলে জানা গেছে। এন.আই.ও.এস পরীক্ষা কাণ্ডে তার সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এন.আই.ও.এস পরীক্ষার এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদ মাধ্যম অন্ততদন্ত শুরু করে। আর এই অন্ততদন্তে উঠে আসে একের পর এক অনিয়ম। ত্রিপুরায় এন.আই.ও.এস-এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাকে ঘিরে এইবার সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। ত্রিপুরা লোক শিক্ষালয় হাই স্কুলে এন.আই.ও.এস পরীক্ষা চলছে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা গীতা দেববর্মার বক্তব্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ এতদিন ধরে স্কুলে এনআইওএস-এর যে পরীক্ষাগুলি পরিচালিত হয়েছে, সেগুলিতে নকল উত্তরপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তা তিনি নিজের মুখে স্বীকার করে নেন। তার উপর তিনি যে বিদ্যালয়ে এন.আই.ও.এস পরীক্ষা নিচ্ছেন তার কোন অনুমতি শিক্ষা দপ্তরের নেই। এনআইওএস-এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষার আয়োজন করতে কে অনুমতি দিয়েছিলেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষিকা। আরও বড় প্রশ্ন তিনি যদি এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন, তাহলে সন্দেহজনক উত্তরপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানার পরও কেন তিনি থানায় কোন ধরনের অভিযোগ দায়ের করেন নি ?

উল্টো তিনি বলেন রাজনৈতিক ব্যক্তির কথায় তিনি বিদ্যালয়ে পরীক্ষার আয়োজন করেছেন। এদিকে জিরানিয়া বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক সুবোধ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন জিরানিয়া এলাকার কোন কোন বিদ্যালয়ে এনআইওএস-এর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে, সেই বিষয়ে ওনাদের কাছে কোন তথ্য ছিল না। তিনি আরও জানান সংবাদ মাধ্যমে NIOS পরীক্ষার কেলেঙ্কারির বিষয়টি সম্প্রচার হওয়ার পর তিনি ঘটনার তদন্ত করেছেন। তদন্তে তিনি যা পেয়েছেন তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে শচীন্দ্রনগর কলোনি হাই স্কুল এবং ত্রিপুরা লোক শিক্ষালয় হাই স্কুলে এনআইওএস-এর পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন দেওয়ান এবং প্রধান শিক্ষিকা গীতা দেববর্মার ভূমিকা কী ছিল? এনআইওএস পরীক্ষায় আরও বিস্ফোরক চিত্র সামনে আসে শ্রীনগর গাবর্দী হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা পরও উত্তরপত্র ফাঁকা।

বৃহস্পতিবার শ্রীনগর গাবর্দী হাই স্কুলে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের মূল ফটকে ঝুলছে তালা। গেটের ভিতরে বারান্দায় বসে রয়েছেন দুই পুলিশ কনস্টেবল। বিদ্যালয়ের ইনচার্জ স্কুলে উপস্থিত থাকলেও প্রথমে সাংবাদিকদের সামনে আসতে চাননি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে স্টাফ রুম থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি। তিনি বেরিয়ে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন পরীক্ষার বিষয়ে সবকিছু বলবেন পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সরঞ্জয় দেববর্মা। পড়ে এনআইওএস-এর পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সরঞ্জয় দেববর্মা জানান পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পরীক্ষার অনুমোদন, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ এবং উত্তরপত্রের বৈধতা নিয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র নিজেই ডাউনলোড করেছেন বলে দাবি করেন শিক্ষক সরঞ্জয় দেববর্মা। কিন্তু কোন ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করা হয়েছে বা কোন ইমেল ঠিকানায় প্রশ্নপত্র এসেছে, কিংবা তার কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না সাংবাদিকদের এই সকল প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবারের এই দৃশ্য রাজ্যে এনআইওএস পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও একবার গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিযোগ কিছু অসাধু শিক্ষক ও দালালচক্রের যোগসাজশে পরীক্ষার নামে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কীভাবে সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ব্যবহার করে এনআইওএস-এর পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে?

যদি অনুমোদন থেকেই থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই গুরুতর অভিযোগ গুলির বিষয়ে এখনো কোন স্পষ্টীকরণ দেন নি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। কারণ, অভিযোগ সত্য হলে কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে পড়াশোনা না করেই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে যারা বছরের পর বছর পরিশ্রম করে পড়াশোনা করছে তাদের ভবিষ্যৎ ও মেধার মূল্যায়ন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? দাবি উঠেছে শ্রীনগর গাবর্দী হাই স্কুল সহ অভিযোগ ওঠা সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের অনুমোদনপত্র, উপস্থিতির নথি, উত্তরপত্র, প্রশ্নপত্র সংগ্রহের তথ্য এবং পরীক্ষার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিরপেক্ষ ভাবে খতিয়ে দেখা হোক। প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha