স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, নভেম্বর ৬ : ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ে চরম আর্থিক দুরবস্থার মুখে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। অর্ধেকের বেশি দেশবাসীর টাকা নিয়ে ডুবল দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাঙ্ক ইউইএনও । ঘটনার জেরে দেশবাসীর ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।। যদিও কংগ্রেস তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। এই অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
জানা গিয়েছে, মধ্যরাতে হঠাৎ করেই ব্যাঙ্কটির কার্যকলাপ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। যার জেরে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক টাকা তুলতে পারেননি। এই ঘটনা দেশে বিরাট দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে সোশাল মিডিয়ায় পেনা লেখেন, ‘আমি দেশের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত। এই অবস্থায় আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হল দেশের বাসিন্দাদের মানসিক শান্তি। যারা আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার উপর ভরসা করে তাঁদের সঞ্চয় রেখেছেন।’
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের ঘোষণার পরই প্যারাগুয়ের সংসদের নিম্নকক্ষ পেনার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সর্বসম্মতিতে ভোট দেন। বিরোধী দলের ৩৫ জন সাংসদ এবং শাসক দলের ভিন্নমতাবলম্বী নেতাদের তরফে আনা অভিযোগ ভিত্তিতে বিশেষ অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়। প্যারাগুয়ের সেনেট (সংসদের উচ্চকক্ষ) এখন সিদ্ধান্ত নেবে তারা এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রসর হবে কি না, নাকি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে। এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ পেনা ‘পরিকল্পিতভাবে কর্তব্যে গুরুতর অবহেলা করেছেন।’
উল্লেখ্য, ইউইএনও ব্যাঙ্ক একটা সময় দেশের দ্রুত বর্ধনশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। যার গ্রাহক ছিল প্যারাগুয়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ। তবে তদন্তে জানা যায়, ব্যাঙ্কটি নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে, পর্যাপ্ত জামানত না নিয়ে ব্যাঙ্ক মালিকদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়েছে। ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। ব্যাঙ্কের অ্যাপ, কার্ড এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ হওয়ায় লক্ষ লক্ষ গ্রাহক তাদের জমানো অর্থ তুলতে পারছেন না। এই সংকট প্রায় ৭,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানকেও প্রভাবিত করেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান