স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, সেপ্টেম্বর ২৯ : আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন প্রদেশে ভয়ংকর বিমান হামলা জুন্টা জেনার। সোমবার ভরা বাজারে এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। ভয়ংকর এই হামলায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, এই রাখাইন প্রদেশ থেকেই এককালে নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে উৎখাত করা হয়েছিল ৭ লক্ষ রোহিঙ্গাকে।
আরাকান সেনার তরফে জানা যাচ্ছে, পশ্চিম মান্দালয় থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দূরে ক্যায়াকটাউ টাউনশিপের কাছে এক বাজার এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। সোমবার দুপুর নাগাদ এই হামলা চলে। বাজারে তখন প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। যুদ্ধ বিমান থেকে ভিড় লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ফেলা হয়। হামলার জেরে ৪৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই হামলার পর কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে আরাকান আর্মির তরফে। বলা হয়েছে, যে বা যারা এই হামলায় জড়িত তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এবং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। এর পর থেকেই রণক্ষেত্র মায়ানমার। ক্ষমতা দখল করা জুন্টা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে রাখাইন প্রদেশে সক্রিয় আরাকান আর্মি এবং চিন প্রদেশে সক্রিয় তাদের সহযোগী জুন্টাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’। এই জোটে রয়েছে ‘ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স’, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইয়াও আর্মি’ এবং ‘মনিওয়া পিপল্স ডিফেন্স ফোর্স’। এরা জোটবদ্ধ ভাবে জুন্টাসেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
আরাকান আর্মি ও রাখাইনে উদ্ধারকাজে নিযুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক ওয়াই হুন আউং বলেছেন, এটি রাখাইন প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান হামলাগুলোর একটি। গত বছরের ডিসেম্বরে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান