স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
৫ আগস্ট:দিকে দিকে বিদ্যুৎ
বিল নিয়ে অসহায় গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে। মানুষ আর মুখ বুজে না থেকে রাস্তায় নামতে
শুরু করেছে। গ্রাহক আন্দোলন যেন এবার তীব্র রূপ নেওয়ার সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড়সড়র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে ডবল ইঞ্জিন সরকার। সাতচাঁদে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ
বিল নিয়ে গ্রাহকদের বিক্ষোভ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। দক্ষিণ ত্রিপুরার
সাতচাঁদ ৬৬ কেভি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে
গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকাল
আনুমানিক ১১টা নাগাদ বিদ্যুৎ অফিসে বিল জমা দিতে আসা বহু গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে
সরব হন। অভিযোগকারী গ্রাহকদের দাবি, এতদিন যেখানে তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল ২৫০ থেকে
৫০০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে চলতি মাসে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ১,৫০০ থেকে ১,৭০০
টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গ্রাহকদের
অভিযোগ, অতিরিক্ত বিলের কারণ জানতে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে
তারা জানান, বিল প্রস্তুতের কাজ আগরতলার হেড অফিস থেকে করা হয়। ফলে স্থানীয় অফিস
থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়াও প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের
অভিযোগ, গত মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করলে যে পরিমাণ ইউনিট পাওয়া গিয়েছিল,
চলতি মাসে একই পরিমাণ টাকা রিচার্জ করেও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। এতে
সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়ে গেছে।
গ্রাহকদের আরও
দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা না করেই অফিসে বসে
নিজেদের ইচ্ছামতো বিল প্রস্তুত করছেন। এর ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের
কোনো মিল থাকছে না বলে অভিযোগ তাদের। এদিন উপস্থিত গ্রাহকরা অবিলম্বে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ
বিলের বিষয়টি তদন্ত করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে
বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ দপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী
দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনে সামিল হবেন তারা। এদিকে বর্ধিত বিদ্যুতের দাম প্রত্যাহার করা
সহ মোট ১৩ দফা দাবিতে সোনামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজারের নিকট ডেপুটেশন
প্রদান করল বিদ্যুৎ গ্রাহক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সোনামুড়া মহকুমা কমিটি। সংগঠনের
পক্ষ থেকে দাবি সনদে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ পরিষেবা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক
পরিষেবা। বিধায়ক শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য বহন
করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজ্যের বিদ্যুৎ সংস্থাকেও একইভাবে বেসরকারিকরণ সহ বিভিন্ন সমস্যায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
ফলে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কর্মচারীরা বিভিন্ন দিক থেকে এক কঠিন সমস্যার
সম্মুখীন হয়। এই সমস্ত সমস্যার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। এদিন
সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা প্রথমে ১৩ দফা দাবি আদায়ের দাবিতে সোচ্চার মিছিল সোনামুড়া
বাজার এলাকা পরিক্রমা করে, পরে সোনামুড়া বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এসে জড়ো হন এবং সেখান
থেকে ৫ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল সিনিয়র ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে দাবি সনদ তুলে
দেন বলে জানান তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান