Thursday, November 5, 2026
বাড়ি রাজ্য বিএসএফের উপর আক্রমণ নেমে আসার পর শুরু হয়েছে ডিমার্কেশন, সৃষ্টি হয়েছে পুশব্যাকের আতঙ্ক

বিএসএফের উপর আক্রমণ নেমে আসার পর শুরু হয়েছে ডিমার্কেশন, সৃষ্টি হয়েছে পুশব্যাকের আতঙ্ক

বিএসএফের উপর আক্রমণ নেমে আসার পর শুরু হয়েছে ডিমার্কেশন, সৃষ্টি হয়েছে পুশব্যাকের আতঙ্ক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ নভেম্বর :  বিএসএফের উপর আক্রমণ এবং অস্ত্রের ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আশাবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় জমির কাগজপত্র যাচাই করা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ডিমার্কেশন ঘিরে আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা।জানা যায়, গত ২ নভেম্বর আশাবাড়িতে বিএসএফ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার পর এবার বিএসএফের আশাবাড়ি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় শুরু হলো জমির বৈধ কাগজপত্র যাচাই ও ডিমার্কেশনের কাজ। সোনামুড়া মহকুমা শাসকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিএসএফ, পুলিশ এবং মহকুমা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের আধিকারিক, আরআই ও তহশিলদারদের নিয়ে একটি দল এলাকায় গিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আশাবাড়ি বিএসএফ বিওপি সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বহু পরিবার বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের সময় বেশ কিছু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে জমির বৈধ দলিল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। অভিযোগ, তাদের মধ্যে অনেকের কাছেই জমির মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ নথিপত্র নেই।এমনকি সরকারি জমিতেও বেশ কিছু পরিবার বসবাস করছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রশাসনের এই প্রক্রিয়া মূলত আশাবাড়ি বিএসএফ বিওপি সংলগ্ন জমির সীমানা চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার এই ডিমার্কেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে আগামী দিনে জমির কাগজপত্র যাচাইয়ের পর কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় জল্পনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলাশাসক জানিয়েছেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার এই প্রক্রিয়া গত দুই মাস ধরেই চলছে। ইতিমধ্যে সোনামুড়া মহকুমার ৪২ টি স্থান এবং বিশালগড় মহকুমার একটি স্থানে অবৈধভাবে দখল করে রাখা সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যারা বেআইনিভাবে জমি দখল করে আছে তাদের উচ্ছেদ হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ না হয় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনত যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা শাসক। আশাবাড়ি বিওপি সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি দোকান এবং বাড়ির জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ফয়জাল হক, আজাদ মিয়া ও মজুমদার নামে পরিচিত কয়েকটি দোকানের জমির কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কবির হোসেন ও গিয়াস উদ্দিন সহ কয়েকজনের বাড়ির জমির বৈধ নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসনের চূড়ান্ত বক্তব্য ও নথি যাচাইয়ের ফলাফল এখনও স্পষ্ট নয়। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে আশাবাড়ির এই জমি সংক্রান্ত জটিলতা কোন দিকে মোড় নেয়। উল্লেখ্য, প্রশাসনকে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শকে হাতিয়ার করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ দীর্ঘ দিনের। এগুলির রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিগত দিনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনায়াসে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি দখল করে বসবাস করছেন বহু পরিবার। তাদের দিয়ে ত্রিপুরায় ভোটব্যাঙ্ক পর্যন্ত কাজে এসেছে। আসন্ন এস আই আর -এর আগে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ। কারণ অনুপ্রবেশ হটাতে দাবি তুলেছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দীর্ঘদিন ধরে এই অনুপ্রবেশ ঘটেছে ত্রিপুরায়।

 

 

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha