স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৫ নভেম্বর : আগরতলা পুর নিগমের ৫০ টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিল কংগ্রেস প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস প্রার্থীদের নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে এক মিছিল সংগঠিত করে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় সহ অন্যান্যরা। মিছিলটি সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরা তাদের প্রস্তাবক ও দলীয় নেতৃত্বদের সাথে নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে গিয়ে রিটার্নিং অফিসারের হাতে মনোনয়ন পত্র তুলে দেয়।
কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ জানান প্রদেশ কংগ্রেস পুর নিগমের নির্বাচনে একক ভাবে লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে বামেদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যদি জোটের জন্যও প্রস্তুত কংগ্রেস দল। এখনো জোট হওয়ার সময় রয়েছে। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন, শহরবাসীর উপর সম্পদ কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এছাড়াও অস্বাভাবিক ভাবে বিভিন্ন কর বৃদ্ধি হয়েছে বর্তমান পরিচালন কমিটির দ্বারা। ফলে আগরতলা শহর দেশের মধ্যে বিপজ্জনক শহর হয়ে উঠেছে। এই শহরে বায়ু দূষণ থেকে শুরু করে পরিষেবার ক্ষেত্রে আগরতলা পৌর নিগম পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বাস্থ্য পরিষেবা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল মিলছে না মানুষের। যার কারণে জন্ডিস সহ বিভিন্ন রোগ শহর এলাকায় বাড়ছে। কর্মসংস্থানের জন্য কোন পরিকল্পনা নেই।
শুধুমাত্র কিছু কর্পোরেট সংস্থাকে লাভ পাইয়ে দেওয়ার জন্য বাণিজ্য কেন্দ্র করে তুলেছে আগরতলা শহরকে। গরিব মানুষের দোকানপাট ভেঙ্গে দিয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে দিয়েছে তারা। এবং বর্তমান পৌরনিগম নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছে মাস্টার প্লেনে কাজ করছে না তারা। জনগণের কল্যাণে অর্থ ব্যয় হয়নি। তাই পরিকল্পনামাফিক কাজ করা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং আগরতলা বাসীর পরিষেবার মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছে।
এগুলো বাস্তবায়ন করতে কংগ্রেস বদ্ধপরিকর। এদিন তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, শান্তিরবাজার, মোহনপুর, জিরানিয়া, রাণীরবাজার এবং কমলপুরে মনোনয়ন পত্র দাখিল করতে পারছেন না বিরোধীদলের প্রার্থীরা। বারবার নিরাপত্তার জন্য দাবি করছে কংগ্রেস। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ জোট হলেও, জোট নিয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করছেন না বিরোধী শিবির। উভয় দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে জমি খুঁজছে উভয় দলের নেতৃত্ব। জোট নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে যখন প্রার্থী তালিকা প্রত্যাহারের সময়সীমা এগোবে। এমনটাই আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান