স্যন্দন
ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৮ অক্টোবর : মাত্র তিন
দিনের শিশুর
সফল জটিল
অস্ত্রোপচার জিবি
হাসপাতালে। জন্মের
পর থেকেই
শিশুটি তার
মায়ের দুধ
খেতে পারছিল
না। এমনকি
নিজের লালাও
গিলতে পারছিল
না সে।
পরীক্ষা নিরীক্ষার
পর ধরা
পড়ে বিরল
জন্মগত ত্রুটি
ইসোফেজিয়াল অ্যাট্রেসিয়া
এবং ট্র্যাকিওইসোফেজিয়াল ফিস্টুলা। অত্যন্ত
জটিল এই
শারীরিক সমস্যার
কারণে শিশুটির
স্বাভাবিক ভাবে
খাবার গ্রহণ
করা সম্ভব
হচ্ছিল না।
পাশাপাশি শ্বাসনালী
ও খাদ্যনালীর
অস্বাভাবিক সংযোগের
কারণে পাকস্থলীর
তরল ফুসফুসে
প্রবেশ করার
আশঙ্কাও ছিল।
ফলে শিশুটির
শ্বাসকষ্টের সমস্যা
দেখা দেয়।
এই কঠিন
পরিস্থিতিতে জিবি
হাসপাতালের চিকিৎসকদের
সম্মিলিত প্রচেষ্টায়
মাত্র তিন
দিনের শিশুটির
জটিল অস্ত্রোপচার
সফল ভাবে
সম্পন্ন করা
হয়। অস্ত্রোপচারের
পর ধীরে
ধীরে সুস্থ
হয়ে উঠছে
শিশুটি। বর্তমানে
সে খাবার
খেতে পারছে
এবং তার
ওজনও বাড়তে
শুরু করেছে।
চিকিৎসকদের আশা
আর কিছুদিন
পর্যবেক্ষণ ও
নিবিড় পরিচর্যার
পর শিশুটিকে
হাসপাতাল থেকে
ছেড়ে দেওয়া
সম্ভব হবে।
বুধবার জিবি
হাসপাতালে সাংবাদিক
সম্মেলন করে
চিকিৎসকরা এই
সাফল্যের বিষয়ে
জানান। সাংবাদিক
সম্মেলনে চিকিৎসকরা
আরও জানান
শিশুটির এই
বিরল জন্মগত
ত্রুটিতে শিশুটির
খাদ্যনালীর একটি
অংশ অনুপস্থিত
ছিল। অন্যদিকে,
খাদ্যনালীর নিচের
অংশের সঙ্গে
শ্বাসনালীর অস্বাভাবিক
সংযোগ তৈরি
হয়েছিল। এর
ফলে খাবার
পাকস্থলীতে পৌঁছানোর
স্বাভাবিক পথটি
বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
এই ধরনের
সমস্যার ক্ষেত্রে
অস্ত্রোপচারই মূল
চিকিৎসা। শিশুটির
রোগ নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন
করেন শিশু
চিকিৎসক ও
নিওনেটোলজি দলের
সদস্যরা। চিকিৎসক
শিবাজী দাসের
নেতৃত্বে চিকিৎসক
দলটি প্রথমে
শিশুটির শারীরিক
উপসর্গ দেখে
এই বিরল
রোগের সন্দেহ
প্রকাশ করেন।
পরবর্তী সময়
এক্সরে সহ
বিভিন্ন পরীক্ষা
নিরীক্ষার মাধ্যমে
রোগ নির্ণয়
নিশ্চিত করা
হয়। চিকিৎসকদের
মতে জটিল
রোগের ক্ষেত্রে
সঠিক সময়ে
রোগটি সন্দেহ
করা এবং
দ্রুত নির্ণয়
করতে পারা
চিকিৎসার একটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ধাপ। পরবর্তী
সময় পেডিয়াট্রিক্স
বিভাগ, সিটিভিএস সার্জারি
বিভাগ, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ
এবং নিওনেটোলজি
দলের সদস্যরা
একসঙ্গে বসে
অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা
করেন। অস্ত্রোপচারের
পাশাপাশি শিশুটির
অপারেশন পরবর্তী
নিবিড় পরিচর্যা
নিয়েও বিশেষ
পরিকল্পনা করা
হয়। চিকিৎসকরা
আরও জানান
মাত্র তিন
দিনের শিশুর
অস্ত্রোপচার করা
অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং
ছিল। শিশুটির
শ্বাসনালীতেও ত্রুটি
থাকায় অ্যানেস্থেসিয়া
দেওয়ার ক্ষেত্রে
বিশেষ সতর্কতা
অবলম্বন করতে
হয়। অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট চিকিৎসক রিমঝিম
চাকমা এবং
চিকিৎসক মনিময়
এই গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্ব পালন
করেন। প্রায়
আড়াই থেকে
তিন ঘণ্টা
ধরে চলে
অস্ত্রোপচার।
বুকের মধ্যে
অস্ত্রোপচার করে
প্রথমে শিশুটির
খাদ্যনালী শনাক্ত
করা হয়
এবং খাদ্যনালীর
পুনর্গঠন করা
হয়, যাতে খাবার
গিলার পর
তা পাকস্থলীতে
পৌঁছাতে পারে।
পাশাপাশি শ্বাসনালীর
সঙ্গে খাদ্যনালীর
অস্বাভাবিক সংযোগ
বিচ্ছিন্ন করে
শ্বাসনালীরও পুনর্গঠন
করা হয়।
শিশুটির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
অত্যন্ত ক্ষুদ্র
হওয়ায় পুরো
প্রক্রিয়াটিই ছিল
অত্যন্ত সূক্ষ্ম
ও জটিল।
অস্ত্রোপচারের পর
শিশুটিকে এনআইসিইউতে
রেখে নিবিড়
পর্যবেক্ষণে রাখা
হয়। পেডিয়াট্রিক্স
ও নিওনেটোলজি
বিভাগের চিকিৎসক
এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়
ধীরে ধীরে
তার শারীরিক
অবস্থার উন্নতি
হচ্ছে। বর্তমানে
শিশুটি নিজে
খাবার গ্রহণ
করতে পারছে
এবং ওজনও
বাড়ছে। উল্লেখ্য
এই ধরনের
জটিল অস্ত্রোপচারের
অভিজ্ঞতা সম্পন্ন
চিকিৎসক আগে
থেকেই রয়েছেন
জিবি হাসপাতালে।
পাশাপাশি আগেও
আইজিএম হাসপাতালে
একই ধরনের
একটি অস্ত্রোপচার
করা হয়েছিল।
এইদিনের সাংবাদিক
সম্মেলনে উপস্থিত
ছিলেন জিবি
হাসপাতালের এমএস
ডাঃ বিধান
গোস্বামী, ডেপুটি এমএস
ডাঃ কনক
চৌধুরী, ডাঃ কনক নারায়ণ
ভট্টাচার্য সহ
অন্যান্য চিকিৎসক
ও স্বাস্থ্য
কর্মীরা।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান