বাড়িজাতীয়মণিপুরে আসাম রাইফেলস-এর শিবিরে হামলা, উল্টে দেওয়া হলো বাহিনীর ট্রাক, অগ্নিসংযোগ একাধিক...

মণিপুরে আসাম রাইফেলস-এর শিবিরে হামলা, উল্টে দেওয়া হলো বাহিনীর ট্রাক, অগ্নিসংযোগ একাধিক গাড়িতে

সেনাপতি (মণিপুর), ১৫ জুলাই (হি.স.) : মণিপুরের সেনাপতি জেলায় আসাম রাইফেলস-এর একটি শিবিরে হামলা চালায় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা শিবিরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, বাহিনীর একটি ট্রাককে উল্টে দিয়ে একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসাম রাইফেলস-এর তিনটি এবং একটি বেসরকারি গাড়ি। ঘটনাটি গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাকুইলংদি এলাকার কাছে একটি তালাশি অভিযান চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংগঠিত হয়েছে।

জানা গেছে, অস্ত্রধারী এনএসসিএন (আইএম)-এর সদস্যরা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর পাওয়ার পর তালাশি অভিযান শুরু করা হয়েছিল। এর পর গতকাল (১৪ জুলাই) রাত থেকে সেনাপতি শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওকলং গ্রামের অধীনস্থ হুথ্রং ব্রিগেড সদর দফতরের কাছে, যা নাগা আর্মির একটি নির্ধারিত শিবির, সেখানে আসাম রাইফেলস ও নাগা আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।

সূত্রের দাবি, ওকলং গ্রামের নাগা আর্মির শিবিরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই এই অশান্তির সূত্রপাত হয়। রাত প্রায় ৯টা ২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত এই মুখোমুখি অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়ার জন্য সেনাপতি শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সামাজিক মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল করে আসাম রাইফেলস-এর কোম্পানি অপারেটিং বেস (সিওবি)-এর দিকে গিয়ে ওকলং এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালীন সিওবি-র প্রবেশদ্বারের বাইরে দণ্ডায়মান একটি অল্টো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কাছাকাছি একটি অপেক্ষমাণ যাত্রীছাউনিতেও বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয়।

সূত্রের খবর, ওকলং এলাকা থেকে আসাম রাইফেলস প্রত্যাহার করে নিয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ফেরার পথে একদল বিক্ষোভকারী একটি আসাম রাইফেলস-এর ট্রাক উল্টে দেওয়া ছাড়াও বাহিনীর দুটি জিপসি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মণিপুর পুলিশ এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) মোতায়েন করা হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য