স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ৪ সেপ্টেম্বর।। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক বহনকারী একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে। তিনি নিহতদের মাদকসন্ত্রাসী (নার্কোটেররিস্ট) বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদেরকে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার কাছে মাদক বহনকারী নৌকায় গুলি ছুড়েছে। নৌকাটিতে প্রচুর মাদ ছিল।” পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “মঙ্গলবারের এই মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়ার সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছে।” তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে আজ সকালে মার্কিন বাহিনী সাউথকমের দায়িত্বে থাকা এলাকায় শনাক্ত হওয়া ত্রেন দে আরাগুয়া মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। এ অভিযানে ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আনতে চাইবে, তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা।” তার পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও যোগ করা হয়, যেখানে একটি মোটরবোটকে সমুদ্রে আগুনে পুড়তে দেখা যায়। ভেনেজুয়েলার তথ্যপ্রচারমন্ত্রী ফ্রেদি নিয়ানেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বানানো।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক যাচাইয়ে ভিডিওতে জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি, তবে তদন্ত চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ছাড়ানো একটি মাদকবাহী নৌযানে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে নৌযানটিতে কী ধরনের মাদক ছিল, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে মাদুরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে ভেনেজুয়েলা ‘অস্ত্রের প্রজাতন্ত্র’ ঘোষণা করবে। ট্রাম্প প্রশাসন গত দুই মাসে দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অতিরিক্ত নৌযান ও কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। মাদকচালান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার অব্যাহত রাখবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। “এ ধরনের অভিযান আরও চলবে,” মন্তব্য করেন তিনি। তবে মাদুরো সরকার এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এসব মোতায়েনকে ‘শতবর্ষের সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে অভিহিত করেছে।

