Thursday, September 24, 2026
বাড়ি রাজ্য রাস্তা অবরোধ করে টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলন, আটক করল পুলিশ, টিআরবিটি-র চেয়ারম্যান বললেন আদালতের নির্দেশ মেনে এগুচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া

রাস্তা অবরোধ করে টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলন, আটক করল পুলিশ, টিআরবিটি-র চেয়ারম্যান বললেন আদালতের নির্দেশ মেনে এগুচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া

রাস্তা অবরোধ করে টেট উত্তীর্ণদের আন্দোলন, আটক করল পুলিশ, টিআরবিটি-র চেয়ারম্যান বললেন আদালতের নির্দেশ মেনে এগুচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৪ সেপ্টেম্বর :আইনি বেড়াজালে টিআরবিটি নিরুপায়। নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে বিনা অনুমতিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষা ভবন ঘেরাও এবং রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন টেট উত্তীর্ণদের। জলকামান দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে আন্দোলনকারীদের আটক করল পুলিশ। গত কয়েক মাস ধরে নিয়োগের দাবিতে কিছুদিন পর পর আন্দোলন চালিয়ে আসছে ২০২৪ সালের ইউজিটি এবং জিটি পদের জন্য আবেদনকারী পরীক্ষার্থীরা। টিআরবিটি- চেয়ারম্যানের কথা কর্ণপাত না করে বহুবার তারা মুখ্যমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তারা টি.আর.বি.টি- চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অফিস লেন স্থিত টিআরবিটি অফিসের সামনে আসে। কিন্তু টিআরবিটির চেয়ারম্যান তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করে। তখন তারা টিআরবিটি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে। একটা সময় তারা রাস্তায় বসে পড়ে। তারা জানায় ২০২৪ সালে তারা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তারা মোট হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

 কিন্তু এখনো পর্যন্ত টিআরবিটি তাদের মেরিট লিস্ট প্রকাস করে নি। এই নিয়ে বহুবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তাই এইদিন ফের একবার টিআরবিটি অফিসের সামনে এসেছে। এইদিন যদি তারা সঠিক কোন উত্তর না পায় তবে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলন থেকে শুরু করে আমরণ অনশনে সামিল হবে। এইদিন টেট উত্তীর্ণরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আন্দোলন জারি রাখলে সেখানে সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে ছুটে আসে বিশাল আরক্ষা বাহিনী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে টিআরবিটির চেয়ারম্যান তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে সম্মত হয়। কিন্ত টেট উত্তীর্ণরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় টিআরবিটির চেয়ারম্যানকে রাস্তায় এসে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। এতেই দেখা দেয় সমস্যা। টিআরবিটির চেয়ারম্যান রাস্তায় এসে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে অসম্মত হয়। পরবর্তী সময় মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের আবেদনে সাড়া দিয়ে সেখানে উপস্থিত হন একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এরই মধ্যে গোয়েন্দা সূত্রে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানতে পারেন টেট উত্তীর্ণ আন্দোলনকারিরা যে কোন সময় অবৈধ ভাবে যে কোন বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করতে পারে। তখন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আন্দোলন কারীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বলেন। তাতে অসম্মত হয় আন্দোলনকারিরা।

 তখন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের উপর জল কামান নিক্ষেপ করা হয়। আন্দোলনকারিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু তারা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করে নি। তখন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে। এবং কয়েকজন যুবক পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এক যুবককে ঘাড়ে ধরে গাড়িতে তুলতে হলো পশ্চিম থানার ওসি সঞ্জিত সেনের। সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেই বলে তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এইদিন মহিলা আন্দোলনকারিরা অভিযোগ করেন পুরুষ আরক্ষা কর্মীরা তাদের উপর বল প্রয়োগ করেছে। যা ত্রিপুরার ইতিহাসে কলঙ্ক জনক ঘটনা হয়ে থাকবে। তাদেরকে ধাক্কা দিয়েছে পুরুষ আরক্ষা কর্মীরা। এমনকি তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। অপরদিকে আরো এক আন্দোলনকারী বলেন, সবচেয়ে অবাক করার বিষয়ে আত্মসমর্পণকারি বৈরীরা যখন রেল জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেছিল। তারা যখন জরুরি পরিষেবার সাথে যুক্ত যানবাহন পর্যন্ত আটকে দিয়েছিল। তখন আরক্ষা কর্মীদের কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় নি।

অথচ আগামী দিনে যারা রাজ্যের শিক্ষক শিক্ষিকা হবে তারা যখন আন্দোলনে সামিল হল, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরক্ষা প্রশাসন রণং দেহি রূপ ধারন করেছে। রীতিমতো আন্দোলন কারীদের উপর জল কামান নিক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর টিআরবিটির চেয়ারম্যান প্রত্যুষ রঞ্জন দেব বলেন, টি আর বিটি ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করছে না। আদালতে একাধিক মামলা থাকার কারণে বারবার মেরিট লিস্টের পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আদালতের নির্দেশিকা মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। আদালতের জটিলতা কেটে গেলে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষা দপ্তর টি আর বি টি কে জানায় কয়টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ১০৩৬ এবং ১০২০ পদে টেট ওয়ান এবং টেট টু নিয়োগ করার জন্য। কিন্তু টেট উত্তীর্ণদের দাবি, সকলকে একসঙ্গে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু রাজ্যের টিআরবিটি- অধিকার নেই শিক্ষা দপ্তর থেকে দেওয়া পরিসংখ্যান বাড়ানো কিংবা কমানোর। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার পর পরিসংখ্যানের বাড়ানো কমানো যাবে না। সুতরাং যা বিজ্ঞপ্তি রয়েছে তাই নিয়োগ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করছে তাদের বয়স অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনের হিসেব করেই তাদের চাকুরী দেওয়া হবে। এইদিন আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করে অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে বিনা শর্তে কিছু সময় বাদে মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha