আগরতলা, ১১ অক্টোবর (হি.স.) : ২০২৮ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের সঙ্গেই থেকে লড়াই করবে জনজাতিভিত্তিক রাজনৈতিক দল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (আইপিএফটি)। জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও বার্তা না দিয়ে এনডিএ-র সঙ্গে থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। রবিবার আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান। একই সঙ্গে পুজোর পর থেকেই মহকুমা, জেলা, ব্লক এবং তৃণমূল স্তরে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সদ্যসমাপ্ত ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের পাশাপাশি টিটিএএডিসি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত প্রার্থীদের সংবর্ধনা জানাতে এদিন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইপিএফটি। দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইপিএফটির সভাপতি প্রেম কুমার রিয়াং, সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেববর্মা, দলের সাধারণ সম্পাদক তথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি পরাজিত প্রার্থীদেরও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান, আইপিএফটি ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র সঙ্গেই থাকবে। তবে নির্বাচনে আসন বন্টন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র এবং নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জোটের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পুজোর পর এনডিএ-র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের রূপরেখা এবং রণনীতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
শুধু জোটের সঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না আইপিএফটি। দলের সাংগঠনিক ভিত আরও শক্তিশালী করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, পুজোর পর থেকেই মহকুমা, জেলা ও ব্লক স্তরের পাশাপাশি একেবারে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে নেমে পড়বেন দলের নেতৃবৃন্দ। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সংগঠনের বিস্তার, কর্মীদের সক্রিয় করা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলীয় নেতৃত্ব মাঠে নামবে।
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে আইপিএফটি-র হয়ে মোট ৩৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পাশাপাশি দলটির সমর্থনে আরও ৪৪ জন নির্দল প্রার্থী নির্বাচনে লড়াই করেন। সব মিলিয়ে আইপিএফটি-সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে মোট ৬৩ জন জয়লাভ করেন। নির্বাচনে প্রাপ্ত এই সাফল্যকে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে দলটি।
ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে টিটিএএডিসি এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা এবং সাংগঠনিক অবস্থান আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েছে আইপিএফটি। এনডিএ-র শরিক হিসেবে নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে দলটি মোট ১৫টি ভিলেজ কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ভিলেজ কমিটি এককভাবে গঠন করবে আইপিএফটি। আরও দুটি ভিলেজ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নির্দল সদস্যদের সমর্থন পাবে দলটি। বাকি ১১টি ভিলেজ কমিটি বিজেপি-র সমর্থনে গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোটের মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই আইপিএফটি-র কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এখনও যথেষ্ট সময় বাকি থাকলেও পুজোর পর থেকেই সংগঠন শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়ে আগাম প্রস্তুতির বার্তা দিল দলটি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান