স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
১০ অক্টোবর : সড়ক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করতে শনিবার এডি নগর পুলিশ মাঠে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সড়ক নিরাপত্তার সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার হাত ধরে এই সড়ক নিরাপত্তা সরঞ্জাম চলে দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে কাজ করতে হবে। নাগরিকরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে তার জন্য দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় আনতে কাজ করতে হবে। কারণ একজন দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত কিংবা মৃত্যু হলে এর ক্ষতি শুধুমাত্র সেই ব্যক্তির হয় না। এর প্রভাব পড়ে তার পরিবার ও সমাজের উপরও। তাই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকার ও পুলিশ এবং পরিবহন দপ্তরের নিলে চলবে না।
এই
দায়িত্ব নিতে হবে যারা পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সড়ক নির্মাণে দায়িত্বে রয়েছেন তারও এর সঙ্গে জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করা হয়। কিন্তু সঠিকভাবে নজর রাখা হয় না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দিন দিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। বহু পরিবারে একাধিক যানবাহন রয়েছে। এর লাগাম টানতে আগামী দিন কর বাড়ানো সহ অন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় কিনা সেটা দেখবে সরকার। তাহলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি ক্রয় করা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। না হলে এভাবে গাড়ি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে সড়ক সুরক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী যানবাহন অপব্যবহার করার প্রসঙ্গে আরো বলেন সরকার একদিকে উন্নয়ন করছে, অন্যদিকে সমানভাবে বেড়ে চলেছে যানবাহন। যা চিন্তার কারণ হয়ে যাবে আগামী দিন। ২০২৫ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা গুলি চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা গুলিতে কি কি ব্যবস্থার প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখতে হবে। শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। গতি নিয়ন্ত্রণ করে যানবাহন চালানোর জন্য যান চালকদের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি
আরও বলেন, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করে রাখা কাম্য নয়। গাড়ি বিক্রয় করার সময় কোম্পানি গুলিকে ক্রেতার গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। ট্রাফিক দপ্তরের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করা নয়, মানুষের জীবন রক্ষা করা। দুর্ঘটনা হলে একজন ব্যক্তির ক্ষতি হয় না, একটি পরিবারের সমস্যা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণ হানী যত বেশি কমানো যায় ততবেশি ভালো। সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় থাকলে যান দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব হবে। যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন কোন পরিবারের কাছে দেখা যায় একাধিক যানবাহন রয়েছে। অথচ ঐ পরিবারের একটি গাড়ি থাকলে চলে। যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যুব সমাজের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান জানান সচেতন হয়ে যানবাহন চালানোর জন্য। এইদিন ট্রাফিক দপ্তরকে ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার নিরাপত্তার সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। এইদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহানির্দেশক জি.এস রাও, ট্রাফিক এসপি কান্তা জাঙ্গির সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। আয়োজিত অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহা নির্দেশক জি এস রাও সহ অন্যান্য আধিকারিক।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান