Monday, October 5, 2026
বাড়ি রাজ্য চোর সন্দেহে যুবকের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ

চোর সন্দেহে যুবকের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ

চোর সন্দেহে যুবকের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ

 

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৫ অক্টোবর :সাব্রুমে চোর সন্দেহে যুবকের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাবার চুরির সন্দেহে এক যুবককে মধ্য রাতে আটকে রেখে পৈশাচিক অত্যাচার চালানোর এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে সাব্রুম মহকুমার দোলবাড়ি হরিনাটিলা এলাকা থেকে। গুরুতর আহত যুবকের নাম সুশান্ত দেবনাথ। তিনি দমদমা নেতাজি পল্লী এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে রাতভর চালানো এই নৃশংস নির্যাতনের ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে দোলবাড়ি হরিনাটিলা এলাকার একটি বাড়িতে রাবার চুরি করার উদ্দেশ্যে সুশান্ত ঢুকছিলেন—সেই সময় সন্দেহজনক স্থানীয় কয়েকজন তাকে ধরে ফেলে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী বা সুশান্তের পরিবারের দাবি, তাকে চুরি করতে সরাসরি দেখা যায়নি। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে কোনো চোরাই সামগ্রী বা রাবার উদ্ধার করা হয়নি। কেবলমাত্র সন্দেহের উপর ভিত্তি করেই রাত আনুমানিক ২ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত ওই যুবকের উপর দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

 পৈশাচিক এই প্রহারে তার হাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভোর প্রায় ৫ টা নাগাদ খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাব্রুম হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত উদয়পুর টেপানিয়া হাসপাতালে রেফার করেন। অন্যদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, সুশান্ত মাদকাসক্ত এবং নেশার টাকা জোগাড় করার জন্যই এলাকায় নানা সময় এ ধরনের চুরির উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। তবে এলাকার সচেতন নাগরিক ও মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের এই আইন হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে। তাদের বক্তব্য—সুশান্ত যদি সত্যিই অপরাধী বা চোর হয়ে থাকেন, তবে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু আইনি পথ না নিয়ে রাতভর এক যুবককে এভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।​বর্তমানে উদয়পুর টেপানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গেছে। সাব্রুম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ দেখে এই নৃশংসতার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

 

 

 

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha