স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
২৬ আগস্ট :ত্রিপুরা ট্রাইবাল
এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএএডিসির একাধিক আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়কে
সামনে রেখে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিপরা মথার প্রাক্তন
সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টিটিএএডিসির
চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার রুনিয়েল দেববর্মণও।দীর্ঘদিন ধরে এডিসি আইনসভায় পাস হওয়া
একাধিক বিল অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি রাজ্যপালের সামনে তুলে ধরেন প্রদ্যোত
কিশোর।
একইসঙ্গে ভূমির
অধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার, নিয়োগনীতি, প্রথাগত আইন এবং ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় স্বশাসিত
পরিষদের ক্ষমতা কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠক শেষে প্রদ্যোত
কিশোরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এডিসির আইন প্রণয়নের
ক্ষমতা এবং সেই আইনগুলি কার্যকর করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর
ধরে এডিসি আইনসভায় একাধিক বিল পাস করেছে। এর মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিল, প্রশাসনিক
সংস্কার, নিয়োগনীতি এবং কাস্টমারি বা প্রথাগত আইন সংক্রান্ত বিল রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয়
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেগুলির অনেকগুলিই এখনও কার্যকর করা সম্ভব
হয়নি। প্রদ্যোত কিশোরের অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে এডিসির পাস করা ১৮টি বিল এখনও সংশ্লিষ্ট
প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সব বিল সরাসরি রাজ্যপালের কাছে পৌঁছায়
না।
এডিসি থেকে
বিলগুলি রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট নোডাল দপ্তরে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্য
সরকারের মাধ্যমে সেগুলি রাজ্যপালের কাছে পাঠানোর কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়াতেই
বিলম্ব হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। এদিন রাজ্যপালের কাছে তিনি আবেদন জানান, এডিসি থেকে পাঠানো
বিলগুলির বর্তমান অবস্থান এবং কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলি আটকে রয়েছে, তা যেন খতিয়ে
দেখা হয়। প্রদ্যোত কিশোর বলেন, কোনও বিল সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে তা প্রত্যাখ্যান
করা যেতে পারে অথবা প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু বছরের
পর বছর একটি বিল ঝুলিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি আরও জানান, এডিসি-র
পাস করা বিল নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।তামিলনাড়ুর
রাজ্যপাল সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রদ্যোত কিশোর বলেন, বিল নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা
কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তবে ত্রিপুরার ক্ষেত্রে
এডিসির বিল রাজ্য সরকারের মাধ্যমে রাজ্যপালের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া থাকায় বিষয়টি
কিছুটা ভিন্ন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।প্রদ্যোত কিশোরের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সংবিধানের
ষষ্ঠ তফসিলের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, টিটিএএডিসি একটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত স্বশাসিত
প্রতিষ্ঠান। ফলে পরিষদের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কার্যকর করার ক্ষেত্রেও
ষষ্ঠ তফসিলের চেতনা বজায় রাখা জরুরি।এডিসির আইনসভায় পাস হওয়া বিল কার্যকর না হলে
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান