Sunday, September 27, 2026
বাড়ি রাজ্য সাঁতরেই পাং ছড়ার উপর দ্রুত সেতু নির্মাণ দাবি ১২০ পরিবারের

সাঁতরেই পাং ছড়ার উপর দ্রুত সেতু নির্মাণ দাবি ১২০ পরিবারের

সাঁতরেই পাং ছড়ার উপর দ্রুত সেতু নির্মাণ দাবি ১২০ পরিবারের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩ আগস্ট :করবুক মহকুমার লাউগাঙ এডিসি ভিলেজের শতরাই উচুই পাড়া ও ব্রু কলোনির মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা শিকার। অভিযোগ সাঁতরেই পাং ছড়ার উপর নেই কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে নিজেদের উদ্যোগেই কাঠের পাটাতন বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই অস্থায়ী সাঁকো। নড়বড়ে এই সাঁকোর উপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় এলাকাবাসীকে। প্রায় ১২০টি পরিবারের বসবাস এই এলাকায়। রিয়াং ও উচুই জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৩২ সালে স্থাপিত এই প্রাচীন জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি।

 এলাকায় ঢুকতে পারে না কোনো যানবাহন। ফলে বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতে হলে মাথায় করে বহন করতে হয় সবকিছু।ঘরবাড়ি নির্মাণের সামগ্রী হোক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিস—সবকিছুই বহন করে নিয়ে যেতে হয় পায়ে হেঁটে। আর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। রোগীকে চ্যাং দোলা করে নিয়ে যেতে হয় সাঁকো পার করে মূল সড়ক পর্যন্ত। বর্ষাকাল এলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। সাঁতরেই পাং ছড়ায় জল বাড়লে অস্থায়ী সাঁকোটির উপর দিয়েই প্রবাহিত হয় ছড়ার জল। তখন বন্ধ হয়ে যায় পারাপার। জল না কমা পর্যন্ত বাইরের জগতের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা জনপদ। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, এই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধীরা।

এলাকার বাসিন্দা কিশোর উচুই জানান, সংসার চালানোর জন্য তার একটি অটো গাড়ি রয়েছে। কিন্তু রাস্তা না থাকায় অটোটি বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন না তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। করবুক ব্লক প্রশাসনের কাছে সেতু নির্মাণের দাবিতে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নির্বাচন এলেই এই প্রত্যন্ত জনপদে রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা বাড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও বর্তমান বিধায়ক সঞ্জয় মানিক ত্রিপুরা এই প্রত্যন্ত এলাকায় একবারও পরিদর্শনে আসেননি বলে অভিযোগ।

গ্রামবাসীদের প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর উপর নির্ভর করে চলতে হবে? একটি স্থায়ী সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ করবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাই আর প্রতিশ্রুতি নয়—সাঁতরেই পাং ছড়ার উপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে ১২০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha