Friday, July 31, 2026
বাড়ি রাজ্য মামলা গ্রহন না করায় ওসি বরখাস্ত, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

মামলা গ্রহন না করায় ওসি বরখাস্ত, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

মামলা গ্রহন না করায় ওসি বরখাস্ত, হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৩০ জুলাই : হাইকোর্টের দাবড়ানিতে নড়েচড়ে বসলো পুলিশ প্রশাসন।পূর্ব আগরতলা থানার ওসি - পর এবার এয়ারপোর্ট থানার ওসি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হলেন। মামলা না নিয়ে অভিযোগকারীকে থানায় ডেকে এনে হেনস্থা করার অভিযোগ এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিবরণে এক তরুণ আইনজীবী জানান, এয়ারপোর্ট থানাধীন এক শাশুড়ি তার পুত্রবধূর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় গত ২৯ জুন। তারপর মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা রাখেনি। পরের দিন থানায় ডেকে এনে সাব ইন্সপেক্টর ঝুমা রায় অসহায় মহিলাকে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে ধমক দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলেন। মামলা তুলে না নিলে এন.ডি.পি.এস মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তী সময় জেলা পুলিশ সুপারকে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ মামলা না নেওয়ার বিষয়টি অবগত করা হলে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে গত ২৫ জুলাই একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া শাশুড়ি। তারপর হাইকোর্টের দাবড়ানিতে ২৬ জুলাই মামলা গ্রহণ করে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। হাইকোর্ট নোটিশ জারি করার পর রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ২৫ দিন আগে পুলিশ সুপার এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মামলা গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু তিনি মামলা গ্রহণ করেননি। এর জন্য এয়ারপোর্ট থানার ওসি সুশান্ত দেবকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানায় ত্রিপুরা পুলিশ। আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন জানান, পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের শিকার শাশুড়ি মামলা গ্রহন না করায় এক মাস আগে এক মহিলা এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করতে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেননি। বরং মহিলাকে থানায় ডেকে এনে হেনস্থা করেছেন। এবং মহিলাকে আটকে রেখে ধমক দেওয়া হয় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। তারপরেই বিষয়টি পুলিশ সুপার নমিত পাঠককে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। তারপর আদালতের নজরে আসার পর বুধবার উচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন ব্যাঞ্চে মামলাটি উঠেছিল। তারপর আদালত নোটিশ জারি করার পর আজকে মহিলাকে জানানো হয় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

 হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, অভিযুক্ত পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে গোটা ঘটনা যেন সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়। অপরদিকে আদালতকে পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এয়ারপোর্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মামলার গ্রহণ করার জন্য। তারপর আদালতকে জানানো হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি সুশান্ত দেবকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালত পুরস্কার জানিয়ে দিয়েছে মহিলাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত থেকে এয়ারপোর্ট থানার দূরত্ব কতটা? তখন তরুণ আইনজীবী জানিয়েছেন উচ্চ আদালত থেকে এয়ারপোর্ট থানা দূরত্ব প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। তখন উচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতি মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানতে চাইলেন যদি আগরতলা শহরের মধ্যে থানা গুলিতে এমন হয় তাহলে রাজ্যের অন্যান্য থানা গুলিতে কি চলছে! তবে ধরনের ঘটনা কোন নতুন বিষয় নয়। পূর্ব আগরতলা থানাতেও মামলা না নিয়ে যুবককে হেনস্থা করার কারণে ওসি সহ অন্যান্যরা বরখাস্ত হয়েছেন।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha