বাড়িরাজ্যআগরতলায় পুষ্পবন্ত প্যালেসে তাজের পাঁচতারা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত...

আগরতলায় পুষ্পবন্ত প্যালেসে তাজের পাঁচতারা হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ



আগরতলা, ৫ জুন (হি.স.) : ইতিহাস কখনও থেমে থাকে না। এক ইতিহাসের কাঁধে ভর করেই জন্ম নেয় আরেক নতুন ইতিহাস। শতবর্ষের স্মৃতি, রাজকীয় ঐতিহ্য এবং রবীন্দ্রনাথের পদচারণায় ধন্য রাজধানী আগরতলায় পুষ্পবন্ত প্যালেসে শুক্রবার সেই নতুন ইতিহাসেরই সূচনা হল। ঐতিহাসিক এই প্রাসাদের প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’ নামের বহুল প্রতীক্ষিত পাঁচতারা হোটেল প্রকল্পের।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা ও রাজপরিবারের উত্তরসূরি প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য-সদস্যা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শুক্রবার সকাল থেকেই কুঞ্জবন এলাকার ঐতিহাসিক প্রাসাদ চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা এবং ভূমি পূজনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের শুভ সূচনা হয়। কপালে তিলক এঁকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা এবং প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল এই অনুষ্ঠান।

পুষ্পবন্ত প্যালেস শুধুমাত্র একটি স্থাপত্য নয়, এটি ত্রিপুরার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবের এক জীবন্ত প্রতীক। ১৯১৭ সালে তৎকালীন মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য দেববর্মা এই রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। রাজকীয় সৌন্দর্য ও শিল্পকলার অনন্য নিদর্শন এই প্রাসাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমলিন স্মৃতি। ত্রিপুরার রাজপরিবারের আমন্ত্রণে কবিগুরু একাধিকবার এখানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। সেই স্মৃতির আবহ আজও বহন করে চলেছে পুষ্পবন্ত প্যালেসের প্রতিটি ইট-পাথর।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এবং ত্রিপুরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর এই প্রাসাদ রাজভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্যের সাংবিধানিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী ছিল পুষ্পবন্ত প্যালেস। ২০১৮ সালে নতুন ক্যাপিটাল কমপ্লেক্সে রাজভবন স্থানান্তরিত হওয়ার পর প্রাসাদটিকে মহারাজা বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়।

এবার সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাই নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পথে। ত্রিপুরা সরকার এবং টাটা গোষ্ঠীর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান হোটেলস কোম্পানি লিমিটেড (আইএইচসিএল)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে এখানে গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারা হেরিটেজ হোটেল ‘তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেস’। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ত্রিপুরার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অনেকের মতে, এটি কেবল একটি হোটেল প্রকল্প নয়; বরং ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক নতুন অধ্যায়। যে প্রাসাদের বারান্দায় একদিন হেঁটেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যে প্রাসাদ রাজ্যের রাজকীয় ও সাংবিধানিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রাসাদই এবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

ইতিহাসের গর্ভে জন্ম নেওয়া পুষ্পবন্ত প্যালেস আজ আবারও ইতিহাস রচনার পথে। অতীতের ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে ভবিষ্যতের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলার এই মুহূর্ত নিঃসন্দেহে ত্রিপুরার জন্য এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য