আগরতলা, ২ জুন (হি.স.) : আগামী ৫ জুন ত্রিপুরা সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে অবস্থানকালে তিনি আগরতলার ঐতিহাসিক পুষ্পবন্ত প্যালেস প্রাঙ্গণে নির্মীয়মাণ তাজ হোটেল প্রকল্পের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৪ জুন মেঘালয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদ (এনইসি)-এর প্লেনারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর ৫ জুন ত্রিপুরায় পৌঁছবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগরতলায় পৌঁছে প্রথমেই তিনি পুষ্পবন্ত প্যালেসে তাজ হোটেল নির্মাণ প্রকল্পের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর সিপাহীজলা জেলার একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৮৫৬ কিলোমিটার, যা রাজ্যের মোট সীমান্তের প্রায় ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৮৩৪ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এবং প্রাকৃতিক কারণে সীমান্তের বেশ কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সীমান্ত বেড়ার অবস্থান ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যার ছবিসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আগামী ৮ জুন থেকে নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবি-র উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে অমিত শাহের এই ত্রিপুরা সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাজ্যের পর্যটন ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পুষ্পবন্ত প্যালেসে তাজ হোটেল নির্মাণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও উন্নয়ন—উভয় ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর রাজ্যের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

