স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ১১ অক্টোবর : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি অনায়াসে জেতার পর রাঁচিতে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে গিয়েছে ভারত বলা ভালো, তারা হেরে গিয়েছে, শুধুমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের প্রতাপের কাছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে আড়াইশো রান তুলে ম্যাচ জিতে নিয়েছে হোপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটাও ন’বল হাতে রেখে। যার পর ভারতীয় বোলিং যেমন সমালোচনার মুখে পড়ছে, ঠিক তেমনই অনুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় পড়ছে ভারতের স্ট্র্যাটেজিও।
সুনীল গাভাসকর যেমন বিশ্বাস করেন, ক্যারিবিয়ান ইনিংসের ১৭তম ওভারে কুলদীপ যাদবকে দিয়ে বল করানো সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। সেই ওভারে ২৪ রান দিয়ে বসেন ভারতীয় চায়নাম্যান। খেলাও যার পর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। প্রবাদপ্রতিম প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের মতে, শ্রেয়স আইয়ারের উচিত ছিল, ১৭ নম্বর ওভার হয় অর্শদীপ সিং নইলে ময়ঙ্ক যাদবকে দিয়ে করানো। “আমি দু’জনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতাম। অর্শদীপকে দিয়ে ১৮ নম্বর ওভার করানো হল। তা হলে ময়ঙ্ককে ১৭ নম্বর ওভার দেওয়া যেতে পারত। বিশেষ করে, ইনিংসের গোড়ার দিকে ও ভালো বোলিং করেছিল। তিনটে উইকেট পেয়েছিল। তা হলে কেন ময়ঙ্ককে ভাবা হবে না?” শুক্রবার খেলা শেষে সম্প্রচারকারী সংস্থাকে বলছিলেন গাভাসকর।
ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর রাঁচিতে হারের কারণ হিসাবে কাউকে আলাদা করে দোষারোপ করতে চাননি। তিনি বরং চিন্তায়, টি-টোয়েন্টিতে বোলার প্রজাতির সার্বিক দশা নিয়ে। রাঁচি টি-টোয়েন্টিতে দু’টো দল মিলিয়ে সম্মলিত খেলেছে ৩৮.৩ ওভার। তাতে রান উঠেছে ৫০১। ৩৩টা ছয় মেরেছেন ৩৮ ওভারের মধ্যে দু’দলের ব্যাটাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি ওয়ানডে-তে ভারত ৩৯ বল বাকি থাকতে ৪০৬ রান তাড়া দেওয়ার পর, বোলারদের দুর্গতি নিয়ে, ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন গম্ভীর। ভারতীয় হেড কোচ বলে দিয়েছিলেন, ক্রিকেটে ব্যাট আর বলের মধ্যে ভারসাম্য বলে কোনও বস্তু আর থাকছে না। ক্রিকেট জিতছে না, ব্যাটাররা জিতে যাচ্ছে। রাঁচিতে আড়াইশো তুলে হারার পর, একই বিষয় পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর।
তবে এত সবের পরেও টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচকে বলতে শোনা যায়, “কোনও পরাজয়কে হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। কোনও কিছুকে চাপা দিতে নেই। নাহলে নিজের উন্নতি হবে কীভাবে! আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাই ক্রমাগত আমাদের উন্নতি করে যেতে হবে।” তবে পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন গৌতি। কেবল বোলারদের ব্যবহার নয়, ব্যাটারদের পজিশন নিয়েও চর্চা জারি। রাঁচিতে চার নম্বরে শ্রেয়স আইয়ার নয়, পাঠানো হয়েছিল শিবম দুবেকে। তাতে অবশ্য কাজের কাজ হয়নি। ১০ বলে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি ক্রিকেটার।
গম্ভীরের মন্তব্য, “দুবেকে এভাবেই দীর্ঘদিন ব্যবহার করে এসেছি। এর মধ্যে বিশ্বকাপ, তার আগের সময়ও রয়েছে। দুম করে, আচমকা এমন পরিকল্পনা করা হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও বিষয়গুলো আপনার পক্ষে যায়। কখনও বিপক্ষে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আমরা সব সময় সাবলীল থেকেছি। ভবিষ্যতেও থাকব। আমি বরাবরই বলে এসেছি, এই ফরম্যাটে কেবলমাত্র ওপেনাররা স্থায়ী। বাকি অর্ডার পরিবর্তনশীল।”
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান