কলকাতা, ১৮ জুন (হি.স.): বিশ্বকাপ ফুটবল মঞ্চে আবার অঘটন। কঙ্গো তাদের প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখল। টেক্সাসের হিউস্টনে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান পরাশক্তির বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়ে পর্তুগাল ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস হেড করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ডিআর কঙ্গো।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কর্নার থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করেন কঙ্গোর উইসা। আর সেই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো। একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ফেরে দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। কিন্তু অনেকগুলো বলে সুযোগ পেয়েও পর্তুগাল গোল করতে ব্যর্থ হয়। ৬৮তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট গোলের সুযোগ পান ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তবে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ দিকে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ চালালেও ডিআর কঙ্গোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হয়। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
এদিকে এদিন একটি ইতিহাসও গড়েন রোনাল্ডো। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন তিনি। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপেই মাঠে নামলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে রেকর্ড গড়া ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। পুরো ম্যাচেই তিনি ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ।
এর আগে একবার বিশ্বকাপ খেলেছিল কঙ্গো ১৯৭৪ আসরে। তবে, সেই সময় দেশটির নাম ছিল জায়ার। ওই আসরে তিন ম্যাচ মিলিয়ে তাদের স্কোরলাইন ছিল ১৪-০।

