স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ২৪ অক্টোবর : ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। দিল্লি হাই কোর্টে দাবি করেছিলেন নেহা বোরা। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হল না। অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার মতো তাঁকেও শান্তিরক্ষার মুচলেকা (Neha Bora Peace Bond Case) দিতে হবে। এমনকী জমা দিতে হবে ১০ হাজার টাকার বন্ডও। দিল্লি হাই কোর্টের সিদ্ধান্তে সেটাই স্পষ্ট হয়ে গেল।
আসলে ১৬ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির তথাকথিত বিক্ষোভের আগে আটক করা হয় নেহাকে। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়েও দেওয়া হয়। অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, বা সৌরভ দাসদের মতো তাঁকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়নি। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁকে দিল্লির স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে একটি নোটিস পান নেহা। সেই নোটিসে বলা হয়, নেহাকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হবে এবং আগামী দিনে শান্তিরক্ষার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিতে হবে। নেহার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল, শান্তিভঙ্গ ও আইন ভেঙে জমায়েতের ডাকের।
দিল্লির স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন নেহা। তাঁর তরফে আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম জানান, ১৬ অক্টোবরের বিক্ষোভে নেহার কোনও ভূমিকাই ছিল না। তাছাড়া নেহা কোনওরকম আইন ভাঙেননি। শান্তিভঙ্গও করেননি। আইনজীবীর দাবি ছিল, বিক্ষোভে নেহার ভূমিকা ছিল না বলেই তাঁকে মাত্র ১৫-১৬ মিনিটের জন্য আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পালটা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছিল, নেহা বারবার প্রকাশ্যে সরকার বদলের হুমকি দিয়েছেন। জমায়ত ও বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছেন। বেশ কিছু ভিডিও ও সোশাল মিডিয়া পোস্ট প্রমাণ হিসাবে আদালতে তুলে ধরে সরকার।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট নেহার আর্জি খারিজ করে দিল। তাঁকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, যা বক্তব্য জানাতে হবে স্পেশ্যাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতেই। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতকেও জানানো হল, নেহার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ, কী কী নথি রয়েছে সেসব তথ্যও নেহাকে দিতে হবে। যার অর্থ, আপাতত যা পরিস্থিতি তাতে নেহাকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের নির্দেশ মতো পিস বন্ডে সই করতে হবে। এবং ১০ হাজার টাকার বন্ডও জমা দিতে হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান