স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, সেপ্টেম্বর ২৯ : বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের অটোমেটেড ফ্লাইট গাইডেন্স সিস্টেমে সফটওয়্যারের সমস্যা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবতরণের সময়ে বিমানের অটো পাইলট মোড বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বোয়িং। এই ত্রুটির কারণে অবতরণের একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিমানের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট-গাইডেন্স ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বা সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
বোয়িং জানিয়েছে, বিশ্বের সমস্ত ৭৩৭ ম্যাক্স অপারেটরকে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। আপাতত পাইলটদের নির্দিষ্ট অপারেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ভারতে ব্যবহৃত হয় ৯৬টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। ভারতের অভ্যন্তরীণ উড়ান সংস্থাগুলোর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় ৫৩টি এবং আকাসা এয়ারের প্রায় ৪৩টি ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতে প্রভাব পড়তে পারে বোয়িংয়ের চলাচলে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কোনও বিমান অবতরণের চেষ্টা করার পর পরিস্থিতির কারণে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ করতে হলে অর্থাৎ অবতরণ বাতিল করে ফের উড়ে গিয়ে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করলে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দ্বিতীয়বার অবতরণের আগে পাইলট নির্ধারিত ফ্লাইট-পথ বা উচ্চতার পরিবর্তন করলে স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট-গাইডেন্স ব্যবস্থার কিছু অংশ কাজ করা বন্ধ করতে পারে। সংস্থার বক্তব্য, এই সমস্যার অর্থ বিমান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া নয়। অটোমেটেড ভার্টিক্যাল নেভিগেশন ছাড়াও ফ্লাইট নিরাপদে পরিচালনা ও অবতরণ করার প্রশিক্ষণ থাকে পাইলটদের। ফলে প্রয়োজন হলে তাঁরা ম্যানুয়ালি বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
গত মাসেই সমস্ত বিমান সংস্থাকে এই কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হয়েছে এবং এটি সামাল দেওয়ার জন্য পাইলটদের কী কী সাবধানতা মানতে হবে, সেই সংক্রান্ত বিধিনিষেধও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোয়িং কর্তৃপক্ষ বর্তমানে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে দ্রুত এই ত্রুটি দূর করা যায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা এবং পরবর্তীতে একাধিক সেফটি স্ক্রুটিনির জেরে ভারতে বোয়িং বিমানগুলির ওপর নজরদারি ইতিমধ্যেই বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান