বাড়িবিশ্ব সংবাদগাজ়ার ত্রাণকেন্দ্র যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’! গত ৭২ ঘণ্টায় অনাহারে মৃত্যু ২১ শিশুর

গাজ়ার ত্রাণকেন্দ্র যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’! গত ৭২ ঘণ্টায় অনাহারে মৃত্যু ২১ শিশুর

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ২৩ জুলাই : পর্যাপ্ত খাবার নেই, ত্রাণশিবিরের বাইরে লম্বা লাইন, একটু বেচাল হলেই ধেয়ে আসছে একের পর এক গুলি! সেই গুলি কারও মাথায়, কারও পায়ে, আবার কারও বুক এ ফোঁড়-ও ফোঁড় করে দিচ্ছে! এমন ছবি গাজ়ায়। তার সঙ্গে জুড়েছে তীব্র খাদ্যসঙ্কট এবং অপুষ্টি! আর এই অনাহার এবং অপুষ্টির শিকার হচ্ছে শিশুরা। গাজ়ার এক হাসপাতালের প্রধান জানিয়েছেন, গত তিন দিনে অপুষ্টি এবং অনাহারে সেখানে ২১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে! গাজ়ার আল-শিফা মেডিক্যাল সেন্টারের ডিরেক্টর মহম্মদ আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলিতে প্রতি দিনই অপুষ্টি এবং অনাহারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সংখ্যা যথেষ্ট ‘উদ্বেগজনক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন সালমিয়া।

শুধু অনাহার নয়, তার সঙ্গে প্যালেস্টাইনিদের বাঁচতে হচ্ছে ইজ়রায়েলি হামলা থেকেও। যদিও প্রতি দিনই হামলার তীব্রতা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে ইজ়রায়েলি সেনা। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এখন গাজ়ায় খাদ্যসঙ্কট চরম সীমায় পৌঁছেছে। ২০ লক্ষের বেশি গাজ়াবাসী খাদ্য এবং জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাবে হাহাকার করছেন। বাঁচার উপায় ত্রাণশিবির। কিন্তু সেটাও যেন প্যালেস্টাইনিদের কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’! গাজ়ার এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার এক ভাষণে তিনি গাজ়ার কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যু এবং ধ্বংসের এমন এক স্তরে রয়েছে, যার তুলনা নেই।’’

গাজ়ায় পরিচালিত ইজ়রায়েল-সমর্থিত ত্রাণ বিতরণকারী সংগঠন গাজ়া হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নিয়েও প্রশ্নের অন্ত নেই। তাদের ত্রাণশিবিরে খাবার আনতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে তার পরেও সামান্য খাবারের জন্য প্রাণ হাতে নিয়ে ত্রাণশিবিরে ভিড় করছেন প্যালেস্টাইনিরা। যদিও অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম গাজ়ার আল-মাওয়াসির ঘরহারাদের জন্য তৈরি শিবিরের এক বাসিন্দা আয়েদ জামালের পোস্ট করা কিছু ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে ভয়াবহতার চিত্র (যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাঁর বর্ণনা, ‘‘ত্রাণশিবিরের লাইনে আচমকা সেনাদের ট্যাঙ্ক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। দেখলাম আমার পাশে থাকা তিন জনের শরীর ফুঁড়ে গুলি বেরিয়ে গেল।’’ ত্রাণ আনতে গিয়েও তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। হুড়োহুড়িতে শেষ পর্যন্ত জামালের ভাগ্যে জুটেছে খাবারের দু’টি খালি বাক্স!

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য