স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক,,২৬ এপ্রিল: সুদানে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত পক্ষগুলো ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মঙ্গলবার দিনের শেষভাগে নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।জাতিসংঘের এক দূত জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি আংশিক কার্যকর রয়েছে। যদিও লড়াইরত দু’পক্ষের আন্তরিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শুরু করতে রাজি হয়েছিল।কিন্তু এদিন রাতে রাজধানী খার্তুম সংলগ্ন অমডুরমান নগরীতে গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেনাবাহিনী আরএসএফ এর অবস্থনগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের একজন সাংবাদিক।
সুদানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ভলকার পার্থেজ অবশ্য মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, “এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কিছু কিছু অংশে কার্যকর রয়েছে বলেই তার মনে হয়েছে।”তবে তিনি বলেন, “কোনও পক্ষই গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত নয়। তাতে বোঝা যাচ্ছে, দু’পক্ষই ভাবছে সামরিক সংঘাতে একে অপরের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব।”একে ‘হিসাবনিকাশের ভুল’ বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ দূত ভলকার। তিনি জানান, খার্তুমের বিমানবন্দর সচল রয়েছে। তবে টারমাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সুদানে এর আগে লড়াইয়ে লিপ্ত দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার অস্থায়ী অস্ত্রবিরতির চুক্তি হলেও কোনো পক্ষই তা মানেনি।গত ১৫ এপ্রিলে সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৫৯ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৪ হাজার জন।এ লড়াইয়ে রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিষেবা।এ পরিস্থিতিতে মানবিক ত্রাণ কাজ সহজ করতেই দুপক্ষ ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছিল এবং তা মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল।কিন্তু এরপরও মঙ্গলবার অমডুরমানের আল-রুমি হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে ১৩ জন আহত হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এক কর্মকর্তা।

