স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ২২ অক্টোবর : মূল্যবৃদ্ধি-সহ একাধিক ইস্যুতে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হলেও এখন তা হিংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এর জন্য দায়ী ইউরোপের শরণার্থী তথা অভিবাসী সমস্যা। মুসলিম অভিবাসীরাই অশান্ত করছে প্যারিসকে। এবার ট্রাম্পকে পালটা জবাব দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ । জানালেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং বোকা বোকা।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা দেশের অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা সংকটের পাশাপাশি মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেও পথে নামেন জনতা। বর্তমানে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্সের অন্তত ৪০টি শহর। সপ্তাহব্যাপী চলা এই আন্দোলনের জেরে রাজপথে নেমে এসেছে ৩ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া। তবে অভিযোগ, প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর, বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজপথে নামে পুলিশের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। তারপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাচ্ছে পুলিশ। ছোড়া হচ্ছে জলকামানও।
বুধবার ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য বিশ্ব নেতাদের একাংশকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। বলেন, “বিদেশি নেতা, যাঁরা অতলান্তিকের ওপারে থাকেন, তাঁরাও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। রাজনৈতিকভাবে তাঁরা ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। এমন সব মন্তব্য করছেন, যেগুলি একইসঙ্গে অগ্রহণযোগ্য ও বোকামির।” এরপরই একজন সাংবাদিক ম্যাক্রোঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ট্রাম্পের কথা বলছেন কি না; উত্তরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “অন্যদের পাশাপাশি তিনিও রয়েছেন।” ফ্রান্সে অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের আগ্রাসন চলছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা-ও খারিজ করে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান