Sunday, September 20, 2026
বাড়ি বিশ্ব সংবাদ ১১ দিনের ব্যবধানে চিকিৎসক ছেলে ও বাবার মৃত্যু, বাংলাদেশে আতঙ্কে হিন্দুরা!

১১ দিনের ব্যবধানে চিকিৎসক ছেলে ও বাবার মৃত্যু, বাংলাদেশে আতঙ্কে হিন্দুরা!

১১ দিনের ব্যবধানে চিকিৎসক ছেলে ও বাবার মৃত্যু, বাংলাদেশে আতঙ্কে হিন্দুরা!

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.): বাংলাদেশে ১১ দিনের ব্যবধানে এক চিকিৎসক ছেলে ও তাঁর বাবার অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে নিজ বাসভবন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের তরুণ চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের (৩১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর, শুক্রবার মৌলভীবাজারের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপরের ঘর থেকে তাঁর বাবা পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে পূর্ণেন্দু চক্রবর্তীর মরদেহটি পাওয়া যায়। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোজ কুমার সরকার জানান, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গালের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দু’বছর আগে বিয়ে করা এই তরুণ চিকিৎসক নতুন বাড়িতে ওঠার পরদিনই এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করছে, তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের এমন পরপর মৃত্যুতে জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চিকিৎসক, শিক্ষক, পুলিশ বা সাংবাদিক—কারও নিরাপত্তাই এখন নিশ্চিত নয়। একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু আদৌ আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’ পুস্তকের তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার, হুমকি ও নির্যাতন চলতে থাকলে দেশ অচিরেই সংখ্যালঘুশূন্য হয়ে পড়বে। নিত্যদিনের হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের বহু তথ্য জনসমক্ষেও আসছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পলাশ কান্তি দে বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশের কোথাও না কোথাও হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে, ফোনে হিন্দুদের পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে, রাতে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। যার শতকরা ৫ ভাগও গণমাধ্যমে তো আসছেইনা, এমনি সামাজিক মাধ্যমেও ভয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে না। পলাশবাবু উদ্বেগ করে বলেন, যেভাবে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে নির্যাতন হচ্ছে তা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপরে হামলা করলে বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ত, কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের উপরে এতো নির্যাতন হচ্ছে বিশ্বমানবতা চুপ করে আছে।

Subrata Debnath
Subrata Debnath https://syandanpatrika.in
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha