স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
১৫ সেপ্টেম্বর: নিজেদের ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তুলে ধরার পাকিস্তানের দাবি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের একাধিক পদক্ষেপ তাদের নিজেদের ঘোষিত শান্তিরক্ষকের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কানাডাভিত্তিক ‘জিওপলিটিক্যাল মনিটর’-এর প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে চীনা অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের উচিত ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভাবমূর্তি নতুন করে মূল্যায়ন করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০০ থেকে ৪০০টি চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অস্ত্রের আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এটি পাকিস্তানের নিরপেক্ষতার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনা অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে পাকিস্তান যদি মধ্যবর্তী পথ হিসেবে কাজ করে থাকে, তবে সেটিই ইসলামাবাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবির সবচেয়ে বড় বিরোধাভাস। এর ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা যেমন বাড়তে পারে, তেমনই পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যে যুদ্ধ বন্ধে কাজ করছে বলে দাবি করছে, সেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
প্রতিবেদনটি দাবি করেছে, পাকিস্তান একদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল, অন্যদিকে ইরানের সামরিক বিমানকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নূর খান ঘাঁটিতে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ইসলামাবাদ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ওই বিমানগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত কূটনৈতিক কর্মীরা ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরান তার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থেকে রক্ষা করতে প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিমান সরিয়ে নেওয়ার কৌশল ব্যবহার করেছিল। অতীতেও আফগানিস্তানে ইরানি বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক অস্ত্র চুক্তি যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির অস্ত্র সংগ্রহ ও মজুত পুনর্গঠনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত মিলছে যে, ইরান দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে ইসলামাবাদ বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মার্কিন ট্রেজারির Exchange Stabilization Fund (ESF) থেকে অর্থ চেয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পাকিস্তানের পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানকে পাকিস্তানের কথিত সহায়তা, সীমিত কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং বেইজিংয়ের প্রতি নির্ভরশীলতা—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের ওপর নির্ভর করে বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান