স্যন্দন ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
১৫ সেপ্টেম্বর: সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হুথি হামলা পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
‘মিডল ইস্ট আই’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনও এক সদস্য দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে চুক্তিটিকে ন্যাটোর Article 5-এর সঙ্গে তুলনা করা হলেও বিশ্লেষকরা এই ধারাটিকে আক্ষরিক অর্থে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
৮
সেপ্টেম্বর ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়। এর ফলে চুক্তির ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে
সৌদি আরবের পাশে সামরিক পাল্টা অভিযানে পাকিস্তান বা তুরস্ক—কোনও দেশই অংশ নেয়নি। দুই দেশই বরং কড়া কূটনৈতিক বিবৃতি দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাকিস্তান চুক্তির শর্তাবলির আওতায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দেশটি সেই শর্ত মেনে চলবে।
তবে
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। ১০ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে—এটি সত্য, কিন্তু এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।
গালফ
বিষয়ক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৫ সালের ইসলামাবাদের দ্বিধার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
২০১৫
সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। সেই সিদ্ধান্তে রিয়াদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই
কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়লে অথবা সৌদি আরবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন পাকিস্তানি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটলে ইসলামাবাদের ওপর জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে এবং সরকারকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
এমন
পরিস্থিতিতে বর্তমানে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সরাসরি পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হুমকি সম্পর্কে অভিন্ন ধারণার অভাবও এই জোটের জন্য একটি বড় সমস্যা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুথিদের কার্যকলাপের কারণে পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখনও অস্থির। জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। হুথিরা তাদের এই কৌশলকে ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ বলে অভিহিত করেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান