ওয়াশিংটন, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.): কানাডা থেকে আমেরিকায় আসা দুগ্ধজাত পণ্য, মদ এবং মোটরসাইকেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। আমেরিকার পণ্যের উপর কানাডা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক বসানোর পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই নির্দেশের আওতায় কানাডা থেকে আমদানি করা মদ, ওয়াইন এবং অ্যালকোহলমুক্ত বিয়ার নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি দুধ থেকে তৈরি কয়েকটি পণ্যও আমেরিকায় ঢুকতে পারবে না।
জানা গেছে, মার্কিন আধিকারিকদের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞার পরিধি সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে আমেরিকার নাগরিকদের জন্য পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে না যায়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে কয়েক দশক ধরে বাণিজ্যের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সীমান্তের দু’পারের ব্যবসা ও ক্রেতাদের জন্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিঘ্নের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ নম্বর ধারার অধীনে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই আইনে এমন দেশ থেকে আমদানি বন্ধ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে, যারা আমেরিকার বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা বজায় রাখে বা তা আরও বাড়ায়। হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার )জানিয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আরও কয়েক ডজন কানাডীয় পণ্যের ক্ষেত্রে—ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্য, আসবাবপত্র এবং কাগজ-সহ—বর্তমানে কার্যকর ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতাও বাড়ানো হবে।
গত মাসে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। আমেরিকা কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর পরেই আগামী বছর থেকে কানাডার গাড়ির উপর আরও বেশি শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোমবার কানাডার বিমান নির্মাতা সংস্থা বম্বার্ডিয়ার তৈরি জেট আমেরিকায় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। মঙ্গলবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প জানান, কানাডায় তৈরি পণ্যকে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন ধরনের চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেবেন। তাঁর বক্তব্য, যতক্ষণ না কানাডা আমেরিকার কৃষক ও সংস্থাগুলির জন্য সম্পূর্ণ ন্যায্য ও সমান আচরণ পুনর্বহাল করছে, ততক্ষণ এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
আমেরিকান মদের উপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা মার্কিন আধিকারিকদের কাছে বিশেষভাবে হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে। বাণিজ্য যুদ্ধের দীর্ঘ সময়জুড়ে অধিকাংশ প্রদেশের সরকারি মদের দোকানে আমেরিকান মদ রাখা হয়নি। উল্লেখ্য, দুই দেশের অর্থনীতি এতটাই গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়ে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান