স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ২১ অক্টোবর : ১০ ম্যাচে একটিও হাফসেঞ্চুরি নেই। ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না হরমনপ্রীত কৌরের। মহিলা টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ এবং এশিয়ান গেমসে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যাট হাতে ‘ফ্লপ’ ছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অবশেষে ‘খরা’ কাটল তাঁর। সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ টি-টোয়েন্টিতে যেন পুরনো ছন্দে ফিরলেন হ্যারি (হরমনপ্রীতের ডাকনাম)। ৪১ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার পর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। কেঁদে ফেললেন তিনি।
মঙ্গলবারের সেই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। জিম্বাবোয়ে বোলারদের কার্যত শাসন করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। জিম্বাবোয়ে সিরিজের আগে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এই ইনিংসটিই তাঁকে যেন ‘পুনর্জন্ম’ দিল। সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে হরমনপ্রীত বলেন, “খুব ভালো লাগছে। শুধু নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। মাঝের সময়টা ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি। খেলাটাকেও খুব উপভোগ করেছি। এটাই ভালো লাগছে।”
তবে খেলার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৭ বছরের ক্রিকেটার। ভারতীয় মহিলা দলের প্রাক্তন কোচ ডব্লিউভি রমনের সঙ্গে কথা বলার সময়ই চোখে জল চলে আসে তাঁর। রমনকে এই ইনিংসের কৃতিত্বও দিয়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁর কথায়, “আমি শুধু নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। যতটা সম্ভব বেশি সময় ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। সেটা করতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে। এর জন্য আপনাকেও কৃতিত্ব দিতে চাই।” রমনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হরমন বলেন, “আমরা যখন এখানে এলাম, আপনি এসে বলেছিলেন, ‘এবার তুমি নিজের মতো করে খেলো, যা করতে চাও করো।’ আমিও সেটাই করতে চেয়েছিলাম। নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। আপনার সেই কথাগুলোর জন্য ধন্যবাদ।”
এশিয়ান গেমসের পর নেটে অনুশীলনের জন্য কিছুটা সময় পেয়েছিলেন হরমনপ্রীত। নিজের ব্যাটিং কোচ হিমাংশু ভাইয়ার অবদানের কথাও ভুললেন না তিনি। তাঁর কথায়, “এশিয়ান গেমসের পর নেটে অনুশীলনের জন্য কিছুটা সময় পেয়েছিলাম। হিমাংশু ভাইয়াকে বিশেষ ধন্যবাদ। আমার জন্য উনি প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। আজকের ব্যাটিংয়ের কৃতিত্ব ওঁরই।” প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সহজে জিতল স্মৃতি মন্ধনার ভারত। জিম্বাবোয়েকে চুনকাম করার ম্যাচে হরমনপ্রীতের পাশাপাশি শেফালি বর্মাও ঝড় তোলেন। তিনি করেন ৩৭ বলে ৬৭। তবে দেশের হয়ে ৯৯তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে সফল হতে পারলেন না বাংলার রিচা ঘোষ (১)। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৭ উইকেটে ২১৬ রান করে। জবাবে জিম্বাবোয়ে ৭ উইকেটে ১২৪ রানেই আটকে যায়। ৯২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান