স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৮ অক্টোবর : খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য তৈরি স্টেডিয়াম। অথচ সেই মাঠেই চার দিন ঠায় দাঁড়িয়ে রইল হেলিকপ্টার! হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনির হেলিকপ্টার গুরুগ্রামের তাউ দেবী লাল স্টেডিয়ামে রাখা নিয়ে এমনই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হেলিকপ্টারের জন্য কয়েক দিন স্টেডিয়ামে ঢুকতেই পারেননি সেখানে নিয়মিত অনুশীলন করা ক্রীড়াবিদরা।
সিঙ্গাপুরে তিন দিনের সফর শেষে গুরুগ্রাম হয়ে চণ্ডীগড়ে ফেরার কথা ছিল সাইনির। গুরুগ্রামে সরকারি বা অসামরিক বিমান চলাচল দফতরের কোনও নির্দিষ্ট হেলিপ্যাড না থাকায় স্টেডিয়ামেই হেলিকপ্টার রাখার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গিয়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেলিকপ্টার রাখলে অতিরিক্ত খরচ হত বলেও সূত্রের খবর। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রীড়াবিদদের অনুশীলনের জায়গা কেন ভিআইপি হেলিকপ্টারের ‘পার্কিং স্পেস’ হবে? বিষয়টি নিয়ে জেলা ক্রীড়া আধিকারিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্টেডিয়ামের পরিচালনভার গুরুগ্রাম মহানগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (জিএমডিএ)-এর হাতে। অন্যদিকে, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের ম্যানেজার সাঙ্গওয়ান জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টার রাখার নির্দেশ আসায় তা আটকানোর সুযোগ তাঁদের ছিল না।
ফলে সিদ্ধান্তটি জেলা ক্রীড়া দফতর, জিএমডিএ নাকি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, কে নিয়েছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা কোনওভাবেই বিচ্ছিন্ন নয় বলে মনে করছেন ক্রীড়াবিদ ও কোচেরা। তাঁদের অভিযোগ, মাসে অন্তত একবার হেলিকপ্টারের ওঠানামার কারণে স্টেডিয়াম এক-দু’দিন করে বন্ধ থাকে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টার দাবি, হেলিকপ্টারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছিল। ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসাবে সেখানে হেলিকপ্টার রাখা হয়নি। খেলাধুলায় হরিয়ানার অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ভারতের ৮৫টি পদকের মধ্যে হরিয়ানার ঝুলিতে এসেছে ৩২টি। যার মধ্যে ১৪টি সোনা, ৯টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। পদকজয়ী ২০৭ জন ভারতীয় ক্রীড়াবিদের মধ্যে ৪৫ জনই হরিয়ানার। তাই অনুশীলনের জায়গায় বারবার ভিআইপি হেলিকপ্টারের আনাগোনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, খেলার মাঠ কি তবে খেলার বাইরের ব্যবহারের জন্যও উন্মুক্ত?
ভারতে অবশ্য এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামে তৎকালীন রাজস্ব দপ্তরের প্রধান সচিব সঞ্জীব খিরওয়ারের কুকুরকে হাঁটানোর জন্য ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন আগেভাগে শেষ করতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খিরওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তাঁকে লাদাখে বদলি করা হয়। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু দুগ্গাকেও অরুণাচল প্রদেশে বদলি করা হয়েছিল। দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টের পর প্রায় ১০ দিন অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক বন্ধ ছিল। ফলে মূল ট্র্যাকের বদলে ওয়ার্ম-আপ ট্র্যাকেই অনুশীলন করতে হয়েছিল ক্রীড়াবিদদের। ২০২৫ সালে ট্র্যাভিস স্কটের কনসার্ট নিয়েও একই প্রশ্ন সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য নন-স্পোর্টিং ইভেন্ট নিয়ে আরও কড়া নিয়ম চালু করে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। গুরুগ্রামের ঘটনা সেই পুরনো প্রশ্নই ফের সামনে এনে দিল। ক্রীড়াঙ্গন কি ক্রীড়াবিদদের জন্য, নাকি প্রয়োজন পড়লে ভিআইপি ব্যবহারের জন্যও?
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান