স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৮ অক্টোবর : ভারতীয় ক্রিকেটে শেষ হয়েছে অজিত আগরকর-অধ্যায়। জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৪ অক্টোবর। তিনি সরতেই এবার জানা গেল, জাতীয় দল নির্বাচনের বৈঠকে এবার থেকে উপস্থিত থাকবেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। ক্রিকেটারদের চোট এবং ফিটনেস সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচকদের কাছে আরও নির্ভুল ভাবে পৌঁছে দিতেই এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে যাতে কোনও সংশয় বা বিভ্রান্তি না থাকে, তা দেখতেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।
লক্ষ্মণ বর্তমানে বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান। ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা, শারীরিক মূল্যায়ন এবং চোট সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরির কাজ হয় সেখানে। ফলে কোনও ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে নির্বাচকদের কাছে যে তথ্য পৌঁছচ্ছে, তার সঙ্গে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের রিপোর্টের কোনও ফারাক থাকুক, তা চাইছে না বোর্ড। নির্বাচন বৈঠকে লক্ষ্মণ থাকলে কোনও ক্রিকেটারের চোট বা ফিটনেস নিয়ে সরাসরি তাঁর কাছ থেকেই তথ্য নিতে পারবেন নির্বাচকেরা। ফলে চোট থেকে ফেরা কোনও ক্রিকেটারকে খেলানো হবে কি না, কাউকে আরও বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন কি না, কিংবা মাঠে নামলে তাঁর উপর কোনও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
লক্ষ্মণের দায়িত্ব অবশ্য শুধু সেন্টার অফ এক্সেলেন্সেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের চোট এবং রিহ্যাব সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট তাঁর কাছে থাকে। কোন ক্রিকেটার কতটা সুস্থ, মাঠে ফেরার অবস্থায় পৌঁছেছেন কি না, কিংবা তাঁকে খেলানোর ক্ষেত্রে কোনও শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্যও তাঁর কাছে থাকে। সাইকিয়ার ব্যাখ্যা, এত দিন এই তথ্যের কোনও অংশ নির্বাচকদের কাছে সরাসরি পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ব্যবধান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। লক্ষ্মণ বৈঠকে থাকলে সেই ফাঁক অনেকটাই কমবে। বাইরের কোনও অসম্পূর্ণ তথ্য বা অনুমানের উপর নির্ভর না করে নির্বাচকেরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রিকেটারের পরিস্থিতি জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
মুম্বইয়ে বোর্ডের পর্যালোচনা বৈঠকের পরই লক্ষ্মণকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, দল বাছাইয়ের সময় ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর চোট ও ফিটনেসকেও আরও গুরুত্ব দিতে চাইছে বোর্ড। এর পিছনে সাম্প্রতিক ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের পর ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে বাইরে থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। চোটের কারণে প্রয়োজনীয় ক্রিকেটারদের না পাওয়া যে দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে, সে কথাও উঠে আসে তাঁর মন্তব্যে।
সামনের বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ও ক্রমশ কমছে। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের চোট এবং তাঁদের মাঠে ফেরার সময় নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা নির্বাচকদের কাছে অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। কাউকে তাড়াহুড়ো করে ফেরানো হবে, না কি আরও কিছু দিন বিশ্রাম দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারের শারীরিক অবস্থার সাম্প্রতিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গাতেই লক্ষ্মণের উপস্থিতি কার্যকর হবে বলে মনে করছে বোর্ড। জাতীয় দল নির্বাচনের টেবিলে এবার তাই পারফরম্যান্সের পাশাপাশি চোট-ফিটনেসের রিপোর্টও আরও সরাসরি জায়গা পেতে চলেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান