স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, অক্টোবর ৪ : বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফ্লাই দুবাইয়ের সহকারী পাইলটের। সৌদি আরবে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ওমানের নাগরিক ‘সন্ত্রাসী’ পাইলট হামাম আল-হামামি জানিয়েছেন, যাত্রী-সহ বিমানটি ধ্বংস করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ওই পাইলট আরও জানান, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” সৌদি আরবের তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি তুলে ধরে এমনই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি মাঝ আকাশে বিরাট বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গত বুধবার। বিমানটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল হামাম। সেটা আঁচ করতে পেরে আটকাতে যান স্মিত, সেসময়েই ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে হামাম তাঁকে কোপ দেয়। শেষ পর্যন্ত স্মিতের সাহসিকতা এবং বিমানের অন্যান্যদের সাহায্যে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। কিন্তু প্রথম থেকে গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। কেউ কেউ মনে করছিলেন, দুই পাইলটের ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই ককপিটে রক্তারক্তি হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়, হামামের পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসী হামলা।
২৯ বছরের পাইলট হামাম আল-হামামিকে সৌদি আরব থেকে ফিরিয়ে আনার পর এখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শনিবার আমিরশাহীর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সহকারী ওই পাইলট জঙ্গি হামলা চালানোরই পরিকল্পনা করেছিলেন। সৌদি আরব, আমিরশাহীর পাশাপাশি এই মামলার তদন্ত করছে ইজরায়েলও। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই হামামির সঙ্গে কোনও বহিরাগত শক্তির যোগ ছিল কিনা। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, বিমানতি ধ্বংস করে ইজরায়েলের নাগরিকদের হত্যাই ছিল ওই জঙ্গি পাইলটের উদ্দেশ্য।
জানা গিয়েছে, কট্টরপন্থী ও উগ্র ভাবধারায় দীক্ষিত হওয়ার কারণে ওমান কর্তৃপক্ষ আগেই তার বিমান চালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সে তথ্য গোপন করে হামামি ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পায়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান