স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক, আগরতলা।
৩০ সেপ্টেম্বর : অতি সন্ন্যাসে গাজন নষ্ট - এই প্রবাদটি মিলে গেল রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে। গত ২৩ মে গণ্ডাছড়ায় কয়েকজন মহিলা গণ্ডাছড়া স্থিত এক নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি শারীরিক নিগ্রহ করে। পরবর্তী সময় এগুলি ভিডিও করে রাখেন সেই ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এলাকার মাতব্বরদের জানানো হয়। তখন মীমাংসা হলেও প্রতিশোধ নিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবার প্রতিশোধ নিতে কিছু মহিলা দ্বারা একদিন মিথ্যা অভিযোগ তুলে নাবালিকাকে মারধর করে গুরুতর ভাবে আহত করে। নাবালিকার অসহায় পিতা গণ্ডাছড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু থানা মামাল গ্রহণ করে নি। বরং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে নাবালিকাকে মা-বাবার অনুমতি ছাড়া তুলে এনে ধলাই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেয়। তারপর থেকে চার মাস ধরে বেআইনি ভাবে নাবালিকাকে আটক করে রেখেছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। নাবালিকার অসহায় পিতা ধলাই জেলা শাসক, গণ্ডাছড়া মহকুমা শাসক, ধলাই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে বারে বারে নাবালিকাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। নাবালিকার বাবার আবেদনে কেউ কোন কর্ণপাত করে নি। নাবালিকার বাবা বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতে হেবিয়াস করপাস মামলা দায়ের করেন। নাবালিকার বাবার হয়ে আদালতে সাওয়াল করেন বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ। তিনি জানান নাবালিকার বাবার দায়ের করা মামলার উচ্চ আদালতে সোমবার শুনানি ছিল। সেইদিন রাজ্য সরকারকে জবাব দিতে বলা হয়। বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বেআইনি আটকের বিরুদ্ধে কোন আইনি যুক্তি দেখতে পারে নি। কোন নাবালিকাকে এই ভাবে মা-বাবার সম্মতি ছাড়া বাড়ি থেকে তুলে এনে আটক করে রাখা যায় না। উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তী কালীন নির্দেশ দিয়ে বলেছেন বুধবারের মধ্যে নাবালিকাকে যেন বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হোক। নাবালিকার পিতার হয়ে তিনি নাবালিকাকে এই ভাবে বেআইনি ভাবে আটক করে রাখার জন্য আধিকারিকরা যেন জরিমানা দেয় তার দাবি জানানো হয়েছে। এই নিয়ে উচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে হলফ নামা জমা দিতে বলেছে। নাবালিকার পিতার দায়ের করা হেবিয়াস করপাস মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে উচ্চ আদালতে। সেই দিন উচ্চ আদালত কি নির্দেশ দেয় তা এখন দেখার।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান