স্যন্দন
ডিজিটাল
ডেস্ক,
আগরতলা।
৫ আগস্ট: চারিদিকে শুধু
উন্নয়ন আর উন্নয়ন। এমনটাই সর্বত্র শোনা যায়। কিন্তু দূরের বাদ্য শুনতে মধুর মাঝখানে
যে বেজায় ফাঁক'র মতো পাঁচ বছর ধরে বেহাল রাস্তা, নেই পানীয় জলের পাইপলাইন! পঞ্চায়েতের
দ্বারস্থ হয়েও শুধু আশ্বাস ক্ষোভে ফুঁসছে সীমান্তঘেঁষা মলয়া গ্রাম।
কমলপুর শহর
লাগোয়া মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মলয়া এলাকার মানুষ
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বেহাল রাস্তা ও পানীয় জলের সংকট নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে
দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও মাটির রাস্তা, আবার কোথাও ইট বসানো থাকলেও অধিকাংশ জায়গাই বর্তমানে
ভেঙেচুরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গ্রামবাসীদের
অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বারবার মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হলেও আজ
পর্যন্ত মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। মিলেছে শুধু একের পর এক আশ্বাস। কিন্তু সেই আশ্বাস
বাস্তবায়িত না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সীমান্তঘেঁষা এই এলাকার
মানুষকে।
বর্ষার সময়
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদামাখা ও ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী,
অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত করতে হয় চরম ঝুঁকি নিয়ে। গ্রামবাসীদের
প্রশ্ন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রাস্তার এমন বেহাল দশা চললেও কেন এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ
নেওয়া হয়নি?শুধু রাস্তা নয়, পানীয় জলের সমস্যাও দীর্ঘদিনের। একদিকে সরকারের জল জীবন
মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে,
অন্যদিকে মলয়া গ্রামের বহু এলাকায় এখনও পৌঁছায়নি পানীয় জলের পাইপলাইন। ফলে দৈনন্দিন
প্রয়োজনীয় পানীয় জল সংগ্রহ করতেও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে
পঞ্চায়েতের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েও যখন শুধু আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই মেলেনি, তখন বাধ্য
হয়ে আজ সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আবেদন-নিবেদন
করেও বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তঘেঁষা
এই এলাকার মানুষ কি শুধু প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের ভরসাতেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করবেন?
গ্রামবাসীদের
স্পষ্ট দাবি, আর আশ্বাস নয়—অবিলম্বে বেহাল রাস্তার সংস্কার ও পাকা
রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জল জীবন মিশনের আওতায় দ্রুত পানীয় জলের
পাইপলাইন বসিয়ে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের জলের সংকট দূর করতে হবে।
এখন দেখার বিষয়,
সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বাস্তব পদক্ষেপ
গ্রহণ করে কি না, নাকি সীমান্তঘেঁষা মলয়ার মানুষকে আবারও নতুন আশ্বাস শুনেই অপেক্ষা
করতে হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান