Monday, November 2, 2026
বাড়ি রাজ্য ন্যাশনাল ওপেন বোর্ডের জাল উত্তরপত্র নিয়ে চাঞ্চল্য

ন্যাশনাল ওপেন বোর্ডের জাল উত্তরপত্র নিয়ে চাঞ্চল্য

ন্যাশনাল ওপেন বোর্ডের জাল উত্তরপত্র নিয়ে চাঞ্চল্য

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ নভেম্বর : জিরানিয়া স্থিত শচীন্দ্রনগর হাই স্কুলে ন্যাশনাল ওপেন বোর্ডের জাল উত্তরপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ উঠল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। উত্তরপত্রে কোনো উত্তর না লিখেই পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে গেলেন ছাত্রছাত্রীরা। এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের ছিল ফিজিক্স পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই হোয়াটসঅ্যাপে উত্তরপত্রে ওএমআর শিট ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা বিদ্যালয়ে পৌঁছায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদোত্তর দিতে পারেননি। এই উত্তর পত্র ফাঁসের পেছনে রয়েছেন এজেন্ট রমণী দেববর্মা এবং সুভাষ দেববর্মা বলে অভিযোগ। সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা যখন বিদ্যালয়ে পৌঁছায় তখন কোনো এক অজ্ঞাত কারণে রমণী দেববর্মা গা ঢাকা দেন। এজেন্ট সুভাষ দেববর্মাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও প্রথমে নিজেকে ক্লার্ক বলে পরিচয় দেন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজের দেওয়া উত্তরেই তিনি ফেঁসে যান। তিনি এজেন্টের ভূমিকা পালন করেন। প্রশ্ন উঠেছে এজেন্ট হয়ে সুভাষ দেববর্মা কিভাবে বিদ্যালয়ের ভেতর প্রবেশ করলেন পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায়? নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় বিদ্যালয়ের ভেতর অভিভাবকরা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারেন না। কোনো ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হলে তখনই প্রবেশ করতে পারেন অভিভাবকরা । সেই জায়গায় জিরানিয়া এলাকার এজেন্ট সুভাষ দেববর্মা বিদ্যালয়ের ভেতর কি করছিলেন? ঘটনার পর শচীন্দ্রনগর স্কুলে ছুটে আসে জিরানিয়া থানার পুলিশ। দিনভর এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যায় পুলিশ। রাত হয়ে যাওয়ার পরেও পুলিশের তদন্ত শেষ হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক সাংবাদিকদের থানায় আসতে বলেন সেখানেই নাকি তিনি উত্তর দেবেন।

কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিকের এই উত্তর ও নানা রহস্য সৃষ্টি করে দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের খাতায় কোন উত্তর না লিখে বের হয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এরা কি তাহলে সবাই উত্তীর্ণ? তবে এর পেছনে কোনো বড় রহস্য রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কেউ কেউ দাবি করছে,‌ প্রতিবছর ওপেন বোর্ড এই ধরনের দুর্নীতি করে চলেছে। এবছরও ব্যতিক্রম নয়। ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের পাস করিয়ে দেওয়ার চুক্তি নিয়েছে। তাই ছাত্রছাত্রীরা খালি উত্তরপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যান। পরবর্তী সময়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ উত্তর লিখে তাদের উত্তীর্ণ করে দেবে বলে কবর। উল্লেখ্য, হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে ওপেন বোর্ড থেকে প্রতিবছর পাস করে বের হচ্ছেন বহু ছাত্র-ছাত্রী। যাদের মধ্যে অনেকেই পাশ করার যোগ্যতা অর্জন করে না। মোটা অংকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পকেট ভরে উত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। যাই হোক এই ঘটনার তদন্ত চাইছে সচেতন নাগরিক মহল।

Abhishek Dey
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha