স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক নভেম্বর ৫ : ডোনাল্ড ট্রাম্পের হারে ভারতীয় রাজনীতির বিরোধী দলগুলির মধ্যেও খুশির ছোঁয়া। আমেরিকার মিড টার্ম নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দল। সংসদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হয়েছে। সেই নীল ঝড়ে নিজেদের সাফল্যের আশা দেখছে ভারতের বিরোধী দলগুলোও-বিশেষত কংগ্রেস। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে একাসনে বসিয়ে বিরোধিতার কৌশল কি আদৌ লাভজনক হবে হাত শিবিরের জন্য?
আমেরিকায় রিপাবলিকানদের হার নিয়ে রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো নেতারা মুখ খোলেননি। কিন্তু জয়রাম রমেশ, কেসি বেণুগোপাল এবং শামা মহম্মদরা ট্রাম্পের হারের মতোই মোদির হারের আশা করছেন। এক্স হ্যান্ডেলে জয়রাম লিখেছেন, ‘মিড টার্ম নির্বাচন আসলে সরকারকে আয়না দেখায়। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, জীবনযাপনের সংকট-যাবতীয় ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। মোদি সরকার এখন চাইছে এক দেশ এক ভোটের ব্যবস্থা করতে। সেটা বাস্তবায়িত হলে সরকারকে এইভাবে আয়না দেখানোর পথ বন্ধ হবে। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পথ বন্ধ হবে।’
মিড টার্ম নির্বাচনে ধরাশায়ী হলেও ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া যাচ্ছে না। তবে আগের মতো ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ বজায় রাখতে পারবেন না তিনি। ইচ্ছামতো বিল পাশ করাতে গেলে মার্কিন সংসদে পদে পদে ধাক্কা খেতে হবে। সেই দেখে বেণুগোপালরা উচ্ছ্বসিত হলেও ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তেমনটা হওয়ার উপায় নেই। ফলে ট্রাম্প এবং মোদিকে একসারিতে বসালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষে নতুন করে কোনও লাভ নেই। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় তারা এখনও সংখ্যালঘু। বিল আটকানোর ক্ষমতাও আপাতত নেই।
তবে উত্তরপ্রদেশ-সহ ৬ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে মিড টার্ম ভোট হিসাবে দেখত পারে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। আড়াই বছর পর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট কেমন ফলাফল করবে, সেটার আঁচ মিলতে পারে উত্তরপ্রদেশের ভোট থেকেই। তবে ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বহুবারই কাজ করেছে ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা। তাই বিধানসভা নির্বাচনের ফলের উপর ভিত্তি করে লোকসভার বিচার করাও খানিকটা অবাস্তব। আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটদের নীল ঝড়ের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশে ইন্ডিয়া জোটের জনপ্রিয়তাকে একাসনে বসানো যায় না।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান