স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৮ অক্টোবর : স্কুলে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান, জরাজীর্ণ ক্লাসরুমের সংস্কার এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তা রূপ নিল এক নজিরবিহীন জনসমুদ্রে। ফরাসি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশ জুড়ে আড়াই লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক একযোগে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।
আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফরাসি পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রবার বুলেট ও গ্রেনেড ব্যবহার করে। আর সেই মিছিলে নেমে পড়ুয়াদের ‘মানবঢাল’ হলেন খোদ মেয়র। এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হল প্যারিসের উপশহর সাঁ-দেনি। শহরটির মেয়র বালি বাগায়োকোকে দেখা গেল মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের পুলিশের কাছ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে। আর সেই সময় তাঁর উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে সংকোচ করেনি সাঁজোয়া দাঙ্গা পুলিশ! ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই ভিডিও।
মঙ্গলবার সাঁ-দেনিতে মূলত কৃষ্ণাঙ্গ ও মধ্যপ্রাচ্যের তরুণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশের। আর এই সময়ই দেখা যায় সেখানে উপস্থিত বালি বাগায়োকো। তিনি আড়াল করতে থাকেন আন্দোলনকারীদের। পরে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”রাস্তায় থাকা হাই স্কুলের ছেলেমেয়েরা আমার নিজের সন্তানও হতে পারত। ওদের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।” যদিও তাঁকে উপেক্ষা করেই কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর দেখা যায় মেয়রের চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। চোখে আই ড্রপও ব্যবহার করতে দেখা যায় তাঁকে।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা দেশের অধিকাংশ স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্সের অন্তত ৪০টি শহর। ২ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনের জেরে রাজপথে নেমে এসেছে প্রায় ৩ লক্ষ পড়ুয়া। ফ্রান্স সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কমপক্ষে দেশের ৯০০টি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এবং আংশিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে এহেন পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘টুথ সোশাল’-এ ট্রাম্পের দাবি, ফ্রান্সে পড়ুয়াদের এই প্রতিবাদ আদতে শিক্ষার অধিকারের লড়াই নয়, বরং ‘অনিয়ন্ত্রিত গণ-অভিবাসন’ এবং ‘একটি ঐতিহ্যশালী দেশের নিয়ন্ত্রণ বা দখল নেওয়ার জন্য ইসলামের চেষ্টা!
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান