স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, অক্টোবর ২৯ : ইজরায়েলের নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মসনদ থেকে সরাতে ‘কলকাঠি’ নাড়ছে বিদেশি শক্তিরা। এই পরিস্থিতিতে সেদেশের নিরাপত্তা এজেন্সি শুরু করল তদন্ত। ইজরায়েলের মুখ্য নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গের নির্দেশেই এই তদন্ত চলছে।
বলে রাখা ভালো, প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট গণনা হয়ে গিয়েছে, তবু বোঝা যাচ্ছে না কারা ক্ষমতায় আসবে। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট পেতে পারেন ৪৮টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু পেতে পারেন ৫৩টি আসন। অর্থাৎ ‘ম্যাজিক ফিগার’ ৬১ থেকে দূরে দুই পক্ষই। এই পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠছে, তুরস্ক ও কাতার এই নির্বাচনে রীতিমতো বিনিয়োগ করেছে ভোটারদের প্রভাবিত করতে। অভিযোগ সত্যি কিনা সেটাই এখন দেখার। বলে রাখা ভালো, এখনও বাকি পোস্টাল ব্যালটের গণনা। যেহেতু তা সেনাকর্মীদের ভোট, তাই মনে করা হচ্ছে এর অধিকাংশই হয়তো নেতানিয়াহুর পক্ষে যাবে। তবে তাতে তাঁর আসনসংখ্যা যদি বাড়েও, ৬১ পর্যন্ত পৌঁছনো কঠিন।
সোহলবার্গ তাঁর নির্দেশিকায় লিখেছেন, ‘নানা সন্দেহজনক বিষয় উঠে এসেছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে হয়তো বিদেশি শক্তি বিনিয়োগ করেছে নির্বাচনে কারচুপি করতে।’ মূলত বিদেশি শক্তির মদত এবং উৎকোচের বিষয়গুলি তদন্ত করে দেখার নির্দেশই দিয়েছেন তিনি। এদিকে ইজরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগের এক সূত্র দাবি করছে, এটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, কিছু একটা গোলমাল রয়েছে। তবে আগামিদিনে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। এদিকে ভোটচুরির অভিযোগ এনেছেন খোদ নেতানিয়াহুও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, মঙ্গলবারের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরব দলগুলি কারচুপি করেছে। ঘুষ, হিংসা, হুমকি, ছাপ্পা ভোট, ভুয়ো নথির ব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ১২০ আসনের কেনেসেটে সরকার গড়তে চাই ৬১টি আসন। কিন্তু যেহেতু নেতানিয়াহুর জোট বা বিরোধী জোট এই ম্যাজিক ফিগার থেকে বহু দূরে, এহেন আরব দল রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট যার দিকে ঝুঁকবে, সরকার তার, এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে প্রভাব খাটিয়ে ভোটের ফলাফলকে কীভাবে বদলানোর চেষ্টা হয়েছে, সেই দিকটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান