স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক ৩ অক্টোবর : উত্তরাখণ্ডের পর এবার গুজরাট। দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যেও চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি । রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলে সই করার পর বিলটি আইনে পরিণত হল। তবে, তফসিলি উপজাতিরা এই আইনের বিধান থেকে বাদ থাকবে।
সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নয়া আইনে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করতে হবে বিয়ে। না করলে তা সরকারি নথি বা চাকরির রেকর্ডে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলবে। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করাতে হবে। সমস্ত বিবাহবিচ্ছেদ বা বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া কেবল সিভিল কোর্টের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। পুত্র ও কন্যার জন্য সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত মার্চে গুজরাট বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি পাশ হয়। বিজেপির বক্তব্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে। মহিলারা শক্তিশালী হবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এর ফলে সংবিধানের মূল ভাবধারা বজায় থাকবে। ‘একটি রাষ্ট্রে দুই প্রধান, দুই নিশান ও দুই বিধান থাকতে পারে না।’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই বাক্যবন্ধ বিজেপির নীতি নির্ধারণে স্পষ্ট। কংগ্রেস সেসময় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করে। তবে সংখ্যাবলে পাশ করিয়ে নেয় বিজেপি। এবার সেটা কার্যকর হয়ে গেল।
দিন কয়েক আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, ২০২৯ সালের আগে এনডিএ শাসিত ২১ রাজ্যেই কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। সেই লক্ষেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটে ওই বিধান কার্যকর হয়ে গেল। মধ্যপ্রদেশ, অসমে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় এই বিল পাশ করে গিয়েছে। বাংলাতেও ইউসিসির বিধান তৈরির জন্য কমিটি গড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আরও একাধিক রাজ্যে দ্রুত ইউসিসির কাজ শুরু হবে বলে খবর।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান