স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৭ নভেম্বর : ত্রিপুরা হাইকোর্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এনআইটি), আগরতলাকে তাদের প্রাক্তন কর্মী ডঃ সুমন্ত চক্রবর্তীর পেনশন কন্ট্রিবিউশন, ছুটির বেতন বাবদ অর্থ এবং গ্র্যাচুইটি মিলিয়ে ৮৫ লক্ষ টাকারও বেশি প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মেমোরেন্ডামের মাধ্যমে পূর্ববর্তী চাকরির মেয়াদ স্বীকৃতি দেওয়ার পর সেই পরিষেবার সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা যায় না।
বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিত এই নির্দেশ দিতে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, “আবেদনকারী যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা এনআইটিএ-কে প্রদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মেমোরেন্ডামটি এনআইটিএ কোনও সময়েই বাতিল করেনি।”
ডঃ চক্রবর্তী ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে ২০১১ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত ত্রিপুরা স্টেট পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০১১ সালের ১২ আগস্ট তিনি এনআইটি আগরতলায় ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি দুটি মেমোরেন্ডাম জারি করে। সেখানে সিসিএস (পেনশন) রুলস, ১৯৭২ এবং সিসিএস (লিভ) রুলস, ১৯৭২ অনুযায়ী পেনশন ও ছুটির সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তী চাকরির মেয়াদ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা দিতে অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ২০১৭ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ডঃ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে একজন বিচারপতির বেঞ্চ তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে। ২০২৩ সালে ডিভিশন বেঞ্চও সেই রায় বহাল রাখে। পরবর্তীতে এনআইটি আগরতলার দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনও ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়।
বর্তমান মামলার সূত্রপাত হয় যখন আবেদনকারী অভিযোগ করেন, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করেনি প্রতিষ্ঠানটি এবং পেনশন ও ছুটির বেতনের হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ভুল করা হয়েছে। বকেয়া অর্থ প্রদানের দাবিতে তিনি পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
মামলার শুনানিতে আদালত উল্লেখ করে, এনআইটিএ-র জারি করা দুটি মেমোরেন্ডামে ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে ২০১১ সালের ১১ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনকারীর পূর্ববর্তী চাকরির মেয়াদ স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ওই মেমোরেন্ডাম প্রত্যাহার করেনি কিংবা চ্যালেঞ্জও করেনি। ফলে সেগুলি চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করেছে।
পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্যাপিটালাইজড ভ্যালু সংক্রান্ত প্রমাণীকৃত বিবরণী আবেদনকারী জমা দেননি বলে এনআইটিএ যে যুক্তি দিয়েছিল, তাও খারিজ করে দেয় আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানের জারি করা নিজস্ব মেমোরেন্ডামের সঙ্গে এই আপত্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পূর্ববর্তী আদালতের রায় এবং নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করতে এনআইটিএ-র ব্যর্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত আবেদনকারীর পক্ষেই রায় দেয়।
সেই অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রদত্ত অর্থ সমন্বয় করে প্রাপ্য পেনশন কন্ট্রিবিউশন, লিভ স্যালারি কন্ট্রিবিউশন এবং গ্র্যাচুইটি বাবদ ৮৫ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ তিন মাসের মধ্যে প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান